অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় নি:স্ব হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের শত শত পরিবার। কেউ কেউ জুয়ার লোভে পড়ে বিক্রী করেছেন জমি-জমা। আর জুয়ারির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। সম্প্রতি অনলাইন জুয়ার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটকের পর মামলা দিয়ে হাজতে পাঠায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর সাথে যুক্ত আছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাও।
চটকদার বিজ্ঞাপনে সয়লাভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। অল্প পুঁজিতে কয়েকগুন লাভ মহূর্তেই হওয়া যাবে লাখপতি। অনলাইন জুয়ার এসব লোভনিয় ফাঁদে হরহামেসায় পাঁ দিচ্ছে উঠতি বয়সের যুবকসহ সব বয়সের মানুষ। ঠিক এভাবেই দ্রæত টাকা ওয়ালা হওয়ার ফাঁদে পাঁ দিয়ে নি:স্ব হয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের তাপসের পরিবার। সহায় সম্পদ হারিয়ে এখন কোন রকমে দিন কাটছে তার পরিবার। তাপসের মতো অনলাইন বেটিংয়ে সব কিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়েছেন অনেকে। আবার অনেকে আতœহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন এলাকা ছাড়া। অন্তবর্তীকালীন সরকার গত ৬ মে অনলাইনে সবধরনের জুয়া নিষিদ্ধ করলেও এর বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার মূল হোতা হিসেবে আছেন সদর উপজেলার শাপলা পিয়ালা গ্রামের বিএনপি নেতা সাইদুর রহমানের ছেলে সারোয়ার রহমান রাতুল (২২), উত্তর বোচাপুকুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে তানিম ইসলাম (২২), মাটিগাড়া সেনপাড়া গ্রামের হেমন্ত সেন (৩৩), মাটিগাড়া গ্রামের মৃত সাফিজ উদ্দীন সাফির ছেলে শাহিন আলম (২৮), আব্দুল গফুর (২৫), মন্তাজের ছেলে আলম (২৮)। মুন্সীপাড়া গ্রামের খায়রুল আলমের ছেলে মাসুদ। ছোট বালিয়া জঙ্গলীপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান, কচুবাড়ি দেবত্তর পাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান অন্যতম।
অসহাত্বের কথা জানালেন তাপসের মা। তিনি বলেন বেটা আগে খারাপ ছিল না। এখন যে এতো খারাপ হয়ে গেছে বলাই যায় না। আর সব হয়েছে অনলাইন জুয়া খেলার কারণে। ভালো পথে তাপসকে আনার অনেক চেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু কোন ভাবেই ফেরাতে পারছি না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
