খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সুকান্তকে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রদের তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
???? কী ঘটেছিল মঙ্গলবার:
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় জনতার হাতে ধরা পড়েন এসআই সুকান্ত। স্থানীয়রা তাকে খানজাহান আলী থানায় পুলিশের হেফাজতে দেন।
বিক্ষোভকারী ছাত্রদের অভিযোগ, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং ছাত্র আন্দোলন দমন করতে গিয়ে এসআই সুকান্ত সরাসরি ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়েছেন। এই ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
????️ ছাত্রদের বক্তব্য:
বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা জানান,
“পুলিশ কমিশনার যদি সময়মতো উপযুক্ত ব্যাখ্যা না দেন, তাহলে আমরা এই পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেবো।”
ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক কদরুল ইসলাম বলেন,
“এসআই সুকান্ত ছিল ছাত্র নির্যাতনের প্রধান মুখ। তার হাতে নারী শিক্ষার্থী পর্যন্ত নিগৃহীত হয়েছে। অথচ জনতা হাতে তুলে দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এটা আমরা মেনে নেব না।
তিনি জানান, যদি পুলিশ কমিশনার ব্যাখ্যা না দেন, তবে আন্দোলনের পরিধি আরও বড় করা হবে।
???? কার্যালয়ে তালা ও পুলিশের বাধা:
বিক্ষোভকারীরা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। এরপর ছাত্ররা প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
তারা অভিযোগ করেন,
“এসআই সুকান্তকে নিয়ে প্রশাসনের মধ্যেই রহস্যজনক নীরবতা আছে। এমন একজন নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে আড়াল করা হচ্ছে।”
???? পুলিশ কমিশনারের প্রতিক্রিয়া নেই:
ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী, এসআই সুকান্তের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা না এলে, আন্দোলন আরও প্রতাপশালী রূপ নিতে পারে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছাত্রদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
