বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং ত্রিমাত্রিক নৌসক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন তিনটি অত্যাধুনিক ডাইভিং বোট ‘পানকৌরি’, ‘গাংচিল’ ও ‘মাছরাঙ্গা’-এর কমিশনিং করলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
বৃহস্পতিবার খুলনা নেভাল জেটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত ডাইভিং বোট তিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত হয়। এ সময় কমিশনিং ফরমান হস্তান্তর করা হয় যথাক্রমে লেঃ কমান্ডার নুরুজ্জামান শেখ (জি), বিসিজিএম, বিএন; লেঃ কমান্ডার মোঃ সোহেল রানা (ট্যাজ), পিসিজিএম, বিএন; এবং লেঃ কমান্ডার মোঃ সাফর উদ্দিন বিশ্বাস (ট্যাজ), বিএন-এর কাছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিক পরিবারসহ বিপুল সংখ্যক নাবিক উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই ডাইভিং বোটসমূহের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩৮.৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ মিটার। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারে। এসব বোটে রয়েছে Launch and Recovery System (LRAS), ডেক ডিকম্প্রেশন চেম্বার (DDC), ১২.৭ মি.মি. হেভি মেশিন গান, অত্যাধুনিক সার্ভেইলেন্স রাডার, জিপিএস, ইকোসাউন্ডার, ডাইভিং সরঞ্জাম ও উন্নত সেন্সর ব্যবস্থা।
নৌবাহিনীর ইতিহাসে ডাইভিং বোটের গুরুত্ব উল্লেখ করে স্মরণ করা হয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের কথা, যখন চট্টগ্রাম বন্দর ও কর্ণফুলী নদীতে মাইন অপসারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘স্পেশাল এক্সপিডিশন-১২’ এবং তাদের দেওয়া ডাইভিং বোট Y-1 নৌবাহিনীর ডুবুরি কার্যক্রমে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ২০২০ সালে Y-1 বোটটি ফেজ আউট করা হয়।
নতুন এই ডাইভিং বোট তিনটি শান্তিকালীন সময়ে সমুদ্র নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, জলদস্যু দমন, চোরাচালান রোধ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, স্যালভেজ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুদ্ধকালীন সময়েও এগুলোর অপারেশনাল ভূমিকা হবে অত্যন্ত কার্যকর।
নৌপ্রধান বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এবং সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। এই বোটসমূহ যুক্ত হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেল।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
