বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের চিকিৎসক ও রোগীরা। আইসিইউ ইউনিট ছাড়া পুরো হাসপাতালে কোনো জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। ফলে চিকিৎসকদের টর্চলাইট বা মোবাইলের আলোতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাতে সরজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডে অন্ধকার নেমে এসেছে। রোগী ও স্বজনরা মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে বসে আছেন। অনেকে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কুমিল্লার ধর্মপুরের নাজমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে। দিন কিংবা রাতে কারেন্ট চলে গেলে আমরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতায় থাকি।অপর এক রোগী মাইশা আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ গেলে মনে হয় হাসপাতাল নয়, যেন ভূতের আস্তানা।
বিদ্যুৎ না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন, ডেলিভারি, ইনজেকশন, স্যালাইন দেওয়াসহ জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট অমিত কুমার দেবনাথ জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ১৫০ বেডে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার ওপর বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে না পারায় রোগীদের সেবা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মেডিকেল অফিসার ডা. এম এ করিম খন্দকার বলেন, অটো মোশন সিস্টেমে টিকিট, চিকিৎসা সেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেডিসিন ডেলিভারি অনলাইনে হয়। লোডশেডিং হলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তাই ডুয়েল লাইন অত্যন্ত জরুরি।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডুয়েল লাইন স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
