শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রে চলমান বিচারহীনতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ, এ মন্তব্য করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বলেছে, এ হত্যার বিচার না হলে দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। হত্যার এক মাস পার হলেও খুনিদের আইনের আওতায় না আনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাষ্ট্র কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত আধিপত্যবাদবিরোধী পদযাত্রা ও সমাবেশে এসব কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ। কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ।
কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ভিত্তিতেই বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে। অথচ সেই রাষ্ট্রেই যদি জুলাইয়ের শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই হত্যার বিচার না হলে জনগণ আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে এবং এর দায় সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ফেলানী থেকে আবরার এবং সর্বশেষ শহীদ ওসমান হাদী—এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা গভীরভাবে প্রোথিত। এই বিচারহীনতার সুযোগ নিয়েই বিদেশি আধিপত্যবাদ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণদের আপসহীন ভূমিকা পালন করাই দেশের স্বার্থ রক্ষার একমাত্র পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের পর যারা নৈতিকতার কথা বলতেন, শহীদ ওসমান হাদীর প্রশ্নে আজ তারা নীরব। হাদীকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে মুছে ফেলা যাবে না। যারা হাদীর পক্ষে রাজপথে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতে জনগণ তাদের পাশেই থাকবে।”
তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশকে শহীদ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এ সময় আব্দুল্লাহ আল জাবের নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া এক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “এ ধরনের অদূরদর্শী বক্তব্য প্রমাণ করে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা অবাস্তব। অবিলম্বে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে জনগণ রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালা করতে বাধ্য হবে।”
পদযাত্রা ও সমাবেশে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, তথ্য–গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াসসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
