কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে পারাপারের সময় গুলি ছুড়ে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আটক যুবকের নাম মোহাম্মদ আলী (২৫)। তিনি রৌমারী সদর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফের আকস্মিক গুলিবর্ষণের মধ্যে তাকে ধরে নিয়ে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খাটিয়ামারী সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬২-১০৬৩ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। এ সময় ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর থানাধীন শাহপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল গেট খুলে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মোহাম্মদ আলীকে আটক করা হয়।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কম্বল পারাপারের চেষ্টা করছিলেন। বিএসএফ গুলি ছুড়লে বাকিরা পালিয়ে গেলেও মোহাম্মদ আলীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায়ই বিএসএফের গুলিবর্ষণ ও আগ্রাসী আচরণে সীমান্তবাসী অনিরাপদ বোধ করেন।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীন মোল্লাচর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফখরউদ্দিন জানান, একজন বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। তবে ঘটনাস্থল তাদের সরাসরি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাইরে ১০৬৩ নম্বর পিলার এলাকায়।
রৌমারী সদর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি যাচাই করে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
ঘটনা সম্পর্কে এখনো বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন আটক যুবককে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
