মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর এক শিক্ষার্থী মাওয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম আবু নাঈম। তিনি এমআইএসটির নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং লেভেল-২-এর শিক্ষার্থী।
এমআইএসটির পাঠানো এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘঅগঊ বিভাগের ১৮ জন অসামরিক শিক্ষার্থীর একটি দল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে মাওয়া ঘাট এলাকায় যায়। সেখানে পৌঁছে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণে বের হন। নৌকাটি ৪ নম্বর পিলারের কাছে একটি চরের নিকটে পৌঁছালে চর থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে তিনজন শিক্ষার্থী সাঁতার কেটে চরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নদীতে নামেন।
সাঁতার শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনজন শিক্ষার্থীই সাঁতার কাটতে অসুবিধায় পড়েন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন। এ সময় নৌকায় থাকা সাঁতার জানা দুই শিক্ষার্থী পানিতে নেমে দুজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তৃতীয় শিক্ষার্থী আবু নাঈমকে উদ্ধার করার আগেই তিনি পানিতে তলিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মাননীয় সেনা ও নৌবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে ঘঅগঊ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও কো-অর্ডিনেটরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে ১৫ আরই ব্যাটালিয়নের একটি স্পিড বোট উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মোতায়েন ৯ পদাতিক ডিভিশনের ১৯ বীর ইউনিট উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৭ সদস্যের (৫ জন ডুবুরি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২০ সদস্যের (৫ জন ডুবুরি) এবং নৌ পুলিশের ৫ সদস্যের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে নৌবাহিনীর ৮ সদস্যের একটি ডুবুরি দল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
উদ্ধারকারী দলগুলো ১ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। আজ সকালে সকাল ৮টা থেকে পুনরায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পিতা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন।
এছাড়া ১৯ বীর ইউনিটের সহায়তায় স্থানীয় আরও চারজন ডুবুরিকে উদ্ধার কাজে যুক্ত করা হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসন (ডিসি ও ইউএনও) বিষয়টি অবগত হয়ে নৌ পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
বর্তমানে ২৪ জন ডুবুরির সমন্বয়ে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখনো নিখোঁজ শিক্ষার্থী আবু নাঈমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
