রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী রাঙ্গামাটি শহরের পৌরসভাধীন পাহাড়ের বিভিন্ন ঝুঁকি প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসক শহরের ভেদভেদিস্থ শিমুলতলী, রূপনগর এলাকা এবং লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন পাহাড়ের বিভিন্ন ঢালু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এ সময় অতিরিক্ত অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (রাজস্ব) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়াসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশ এবং রেডক্রিসেন্টের সদস্যসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, সকাল থেকে আমি নিজে শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছি। এবারের টানা বর্ষনে পাহাড়ের ঝুঁকিপুর্ণ এলাকায় বসবাসকারী কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনা মুলক প্রচারণার পাশাপাশি তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে নির্দেশনা প্রদান করেছে প্রশাসন। পাহাড় ধসের ঝুঁকিপুর্ণ এলাকায় করা হচ্ছে মাইকিং।
জেলা প্রশাসক জানান, টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও পৌরসভা যৌথভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলেছে। ইতোমধ্যে বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধসে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। পৌর এলাকার ২৮টি স্থানকে পাহাড় ধ্বস প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১১টিসহ রাঙ্গামাটি জেলায় সর্বমোট ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক শহরের ঝুকিপুর্ণ এলাকা পরিদর্শন শেষে শহরের লোকনাথ মন্দিরের হলরুমের আশ্রয়কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে ২১টি পরিবারের মোট ৭০ জন নারী-পুরুষ-শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য জরুরী খাবার ও ঔষধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এখনো জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছেন। পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি, লোকনাথ মন্দির এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে অসংখ্য পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব এলাকাতেই পাহাড় ধসের ঝুঁকি অনেক বেশী থাকে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৫০ হাজার মানুষ। অতীতেও এসব এলাকার অনেকগুলোতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছিলো।
উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটিতে সেনা সদস্যসহ প্রায় ১২০ জন ও ২০১৮ সালে ১১ জন মানুষ মারা যান। অতীতের মতো পাহাড় ধ্বসে যাতে কোন প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য সকল ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবারত সকলকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার আহবান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
