ঢাকা, ৭ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

সিলেটের মায়াবী ঝর্ণা—প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের হাতছানি

সারাদেশ | বিলকিস সুমি। ব্যুরো প্রধান। সিলেট।

(৮ ঘন্টা আগে) ৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ৭:৫৭ অপরাহ্ন

banglahour

এক সময় সিলেটের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠত হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সিলেটের পর্যটনচিত্র। এখন মাজারের পাশাপাশি সিলেট মানেই পাহাড়, ঝর্ণা, নদী আর সবুজের অপরূপ সমারোহ।
মাধবকুণ্ড, জাফলং, বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, উৎমাছড়া, লোভাছড়া, লক্ষণছড়া, ভোলাগঞ্জ, লালাখাল কিংবা রাতারগুল—প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এসব নাম এখন অতি পরিচিত।
বর্ষায় সিলেট যেন নতুন রূপে সাজে। পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো ফিরে পায় প্রাণ, নদীতে বাড়ে পানির স্রোত, আর চারপাশের সবুজ হয়ে ওঠে আরও সতেজ। তাই ব্যস্ত নগরজীবন থেকে একটু স্বস্তি পেতে বর্ষায় সিলেট হয়ে ওঠে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আরও কিছু নতুন দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে অন্যতম জাফলংয়ের সংগ্রামপুঞ্জি বা সেনগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা—যা অনেকের কাছে ‘মায়াবী ঝর্ণা’ নামেও পরিচিত।


জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের হাঁটা পথ পেরোলেই দেখা মেলে এই ঝর্ণার। সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঝর্ণাটি কয়েকটি ধাপে নেমে এসেছে। দূর থেকেই শোনা যায় পাহাড় বেয়ে নেমে আসা পানির গর্জন।


কাছে যেতেই চোখে পড়ে সবুজ গাছপালা, পাহাড়ি পাথর আর স্বচ্ছ পানির অপূর্ব মেলবন্ধন। পাহাড়ের গা বেয়ে কয়েকটি ধারায় নেমে আসা সাদা পানির স্রোত যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক ছবি।


ঝর্ণার নিচে জমে তৈরি হয়েছে ছোট্ট জলাধারের মতো জায়গা। চারপাশে বড় বড় পাথর। শীতল পানিতে পা ভেজানো কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ—দুটিই হতে পারে ভ্রমণের আনন্দের অংশ।
তবে ঝর্ণার উপরের দিকে উঠতে হলে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। পিচ্ছিল পাথর, পানির স্রোত আর দুর্গম পথ পেরিয়ে উপরে উঠতে দরকার সাহস ও অভিজ্ঞতা। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না যাওয়াই ভালো।
ঝর্ণার একটি ধাপে পানির কিছু অংশ নিচে নেমে আসে, আর কিছু পানি চলে যায় পাহাড়ের গুহাসদৃশ একটি সুড়ঙ্গের দিকে। অন্ধকার সেই সুড়ঙ্গের শেষ কোথায়—তা নিয়ে রয়েছে নানা কৌতূহল। তবে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে প্রবেশ করা নিরাপদ নয়।


বর্ষায় সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের ভিড় বাড়লেও মাধবকুণ্ড কিংবা বিছনাকান্দির মতো এখনো অতটা পরিচিত নয় এই মায়াবী ঝর্ণা। তাই প্রকৃতির আরও কাছাকাছি যেতে চাইলে এটি হতে পারে দারুণ এক গন্তব্য।
সিলেটের পাহাড়, ঝর্ণা আর নদীর এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা।


আর দিনের শেষে ফিরতি পথে ঘুরে আসা যায় হজরত শাহপরান (র.)-এর পবিত্র মাজারে। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর আধ্যাত্মিক আবহ—দুইয়ের সমন্বয়ে পূর্ণতা পেতে পারে সিলেট ভ্রমণ।
প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য যেন বারবারই বলে—সিলেট একবার দেখলে, মন পড়ে থাকে বারবার বিলকিস  সুমি

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম