ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মঙ্গলবার এ শুনানি শুরু হয়। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আইনজীবী অনুপস্থিত থাকার কারণে আপিল বিভাগ আপিলটি খারিজ করে দেন। পরে, গত ২২ অক্টোবর আদালত বিলম্ব মওকুফ করে আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করেন।
নিবন্ধন নিয়ে আইনি প্রেক্ষাপট
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সাময়িক নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০০৯ সালে এ নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তরিকত ফেডারেশনসহ কয়েকটি দলের নেতারা রিট করেন।
রিটের পর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, এ নিবন্ধন আইনসঙ্গত নয়। একই সঙ্গে, আদালত জামায়াতকে আপিল করার অনুমতি দেয়।
সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক গঠনতন্ত্র
জামায়াতের গঠনতন্ত্র বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় হাইকোর্ট ২০১৩ সালে দলটির নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বলা হয়, গঠনতন্ত্রের অনেক ধারা অসাংবিধানিক।
এরপর জামায়াতে ইসলামী গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নতুন নামে নিবন্ধন পুনরায় বৈধ করার চেষ্টা করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
বর্তমান শুনানি
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ বিষয়ক চূড়ান্ত শুনানি চলছে। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্ধারণী মুহূর্ত
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বৈধতার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অপেক্ষায় রয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
