পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কমিশন গঠন করার কথা বলেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তবে দুইটি মামলা বিচারাধীন থাকায় আপাতত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। রোববার সকালে এ তথ্য জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান এই তথ্য জানান। এর আগে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা বললেও, সরকারের পক্ষ থেকে এবার ওই বক্তব্য থেকে সরে আসা হয়েছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনার তদন্তে প্রথমে লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়, পরবর্তীতে তা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়।
সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিস্ফোরক আইনে ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
বিচার চলাকালে তৎকালীন বিডিআরের ডিএডি রহিমসহ চার আসামির মৃত্যু হয়। মামলায় বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও দণ্ডিত হন। পিন্টু সাজা ভোগকালীন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম পরিবর্তন করা হয় এবং বর্তমানে এটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচিত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
