ঢাকা, মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর): সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিকভাবে বাতিল করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান পুনর্বহাল করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গৃহীত হয়েছিল এবং এটি ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ের পরিপন্থি। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান বাতিল হয়ে যায়।
সংবিধান সংশোধনী ও রিটের প্রেক্ষাপট
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয় এবং ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল এবং নারীদের সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। এ ছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং গণফোরামের প্রতিনিধিরাও রুল সমর্থন করে যুক্ত হন।
শুনানি ও রায়ের ধারাবাহিকতা
গত ৪ ডিসেম্বর এ রিটের শুনানি শেষ হয়। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও শাহরিয়ার কবির এবং রাষ্ট্রপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষে একাধিক আইনজীবী যুক্ত হন।
১৭ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা ছিল অসাংবিধানিক।
পরবর্তী ধাপ
এই রায়ের ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ সুগম হলো। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।
প্রতিক্রিয়া
এই রায়ের বিষয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই রায় নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
