
(১ বছর আগে) ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শনিবার, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. নাদিম (২০)। একসময় অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ চালালেও এখন তিনি পঙ্গুত্ববরণ করে ঘরের বোঝা হয়ে গেছেন। উন্নত চিকিৎসার অভাবে দিন কাটছে অসহায়ভাবে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবনযুদ্ধে পরাজিত নাদিম
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐক্যের আন্দোলনে অংশ নেন নাদিম। নিয়মিত মিছিলে অংশ নেওয়ার পর ২০ জুলাই আন্দোলনে যাওয়ার পথে বিজিবির গুলিতে আক্রান্ত হন তিনি। তার শরীরে মোট সাতটি গুলি বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে সাইনবোর্ড প্রোঅ্যাকটিভ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ আরও দুটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে এখনো তিনি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।
নাদিম বলেন, "আমি এখন ঘরের বোঝা হয়ে গেছি। কাজ করতে পারি না। উন্নত চিকিৎসার সুযোগও পাচ্ছি না। হাত পুরোপুরি অচল হয়ে আছে। পরিবারের কষ্ট দেখে বাসায় ফিরতে মন চায় না।"
পরিবারের আর্থিক দুর্দশা
নাদিমের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি। অটোরিকশা চালিয়ে মাকে ও ছোট ভাইকে নিয়ে কোনোরকমে দিন কাটাচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে রিকশাটিও বিক্রি করতে হয়। এরপরও ঋণের বোঝায় জর্জরিত তাদের পরিবার।
নাদিমের বড় বোন নাসরিন বলেন, "আমার ভাই গুলি খাওয়ার পর আমরা ধার-দেনা করে চিকিৎসা করিয়েছি। এখন ঋণের বোঝা টানতে পারছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে যেন উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওর আয় ছাড়া আমাদের সংসার চালানো সম্ভব না।"
সরকারি সহায়তা প্রয়োজন
নাদিম জানান, সম্প্রতি "জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন" থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে সেটি চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। উন্নত চিকিৎসার অভাবে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।
পরিবারের দাবি, সরকার যেন দ্রুত নাদিমের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। অন্যথায় এই তরুণকে সারাজীবন পঙ্গুত্ব নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।