
(১ বছর আগে) ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শনিবার, ১:১৫ অপরাহ্ন
কিয়েভ, ১৬ ফেব্রুয়ারি: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যে পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। এবার সেই আশঙ্কা আরও প্রকট হলো, কারণ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক চুল্লির সুরক্ষা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন হামলার ফলে চুল্লির সুরক্ষা দেয়ালে আঘাত লাগে এবং এতে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে দায়ী করা হলেও মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনায় আইএইএ-র অবস্থানরত বিশেষজ্ঞ দল জানায়, রাত ১টা ৫০ মিনিটে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপর তারা তাদের বাসস্থান থেকেই আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পান। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাতে সংস্থাটি জানায়, ড্রোন হামলায় চুল্লির সুরক্ষা কাঠামো 'নিউ সেফ কনফাইনমেন্ট' (এনএসসি)-এর বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভবনের ভেতরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে আইএইএ নিশ্চিত করেছে যে, ভবনের ভেতরে ও বাইরে বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন,
“এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। এটি দেখায় যে সামরিক সংঘাত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর জন্য এক বড় ঝুঁকি।”
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দ্যমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেছেন,
“রাশিয়া কখনোই পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় না। ইউক্রেনের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক।”
উল্লেখ্য, ইউক্রেনের ঝাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যা ইউরোপজুড়ে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়। বিস্ফোরণের ফলে ৩১ জন তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারান, এবং প্রায় ৮৪ লাখ মানুষ তেজস্ক্রিয়তার শিকার হন।
সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান সংঘাত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।