
(১ বছর আগে) ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সোমবার, ৯:০৫ অপরাহ্ন
র্যাব-১০-এর সাবেক অধিনায়ক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে ঢাকার আদালতে। যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখা এই কর্মকর্তাকে ‘গণহত্যার পাহারাদার’ হিসেবে উল্লেখ করে মামলাটি করা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কুতুবখালির বাসিন্দা রুমা বেগম এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তার ভাগিনা রিয়াজ মোর্শেদ অপুকে (২৪) হত্যার সঙ্গে ফরিদ উদ্দিনসহ আরও অনেকে জড়িত ছিলেন। মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র্যাব কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনসহ মোট ২৮৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। আদালতের পেশকার মিজানুর রহমান কালবেলাকে জানিয়েছেন, "আদালত যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।"
জানা গেছে, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর র্যাব-১০-এর অধিনায়ক ফরিদ উদ্দিনকে ডিআইজি এপিবিএন হিসেবে পার্বত্য জেলাগুলোর কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তবে তার পদোন্নতির পর আন্দোলনকালে দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ফরিদ উদ্দিন বলেছিলেন, "এখানে সাধারণ শিক্ষার্থী নেই, সরকারবিরোধী লোকজন জড়ো হয়েছে। আমরা যদি প্রাণহানি ঘটাই, তাহলে এখানে ক্লিয়ার করতে ১০ মিনিটের মতো সময় লাগবে।"
পদোন্নতির পর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারী নেতারা।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, "র্যাব-১০-এর অধিনায়ক ফরিদ উদ্দিন যাত্রাবাড়ীর আন্দোলন দমনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে পুরস্কৃত করেছে।"
ঢাকা আইনজীবী সমিতির (এডহক) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, "যাত্রাবাড়ীতে জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার মহানায়ক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে সিইও পদে পদায়ন করা হয়েছে।"
মামলা দায়ের ও ছাত্র নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশের পর থেকে ফরিদ উদ্দিন তার কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।