banglahour

স্বামী না চাইলেও সিনেমায় কাজ করব না; পপি

বিনোদন | অনলাইন ডেস্ক

(১ বছর আগে) ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ৪:২৩ অপরাহ্ন

২০২০ সালে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। সেই থেকে দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় পর পারিবারিক একটু ইস্যুতে আবার আলোচনায় আসেন তিনি। এ সময় জানা যায়, বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন এই চিত্রনায়িকা। তার একটি সন্তানও রয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এতদিন কিছু না বললেও গত রোববার দুপুরে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে বিয়ে, মাতৃত্ব ও সিনেমাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

সাক্ষাৎকারে কেন গোপনে বিয়ে করতে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে পপি বলেন, বিয়ের খবর মোটেও গোপন করিনি। মা-বাবা, ভাইবোন, পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ফিল্মের বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সবাই আমার বিয়ের খবর জানত। ফিল্মের পপির ব্যাপারে সবার আগ্রহ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমারও তো একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। সে জীবনের কতটুকু কী আমি পাবলিকলি জানাব, কতটুকু জানাব না, সেটা একান্তই আমার বিষয়। এ খবর জানাতে আমার কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার বিয়ের খবরটা পরিবার ও ফিল্মের কাছের মানুষেরা জানলেই চলবে। রিয়াজ, নিপুণ, ফেরদৌসসহ সিনেমার বন্ধুরা জানত।

তিনি বলেন, আমাদের সাত বছরের পরিচয়। পরিচয়ের তিন বছর পর আমাদের বিয়ে হয়।তবে বিয়ে নিয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। সেই অর্থে প্রেমের বিষয়টা ছিল না। আদনানের সঙ্গে আমার মা-বাবাসহ পরিবারের সবার চমৎকার সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারে যাওয়া-আসা ছিল। আমরা সবাই মিলে ঘুরতেও গেছি। পারিবারিক বন্ধু, আমার অসাধারণ একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। আমার যেকোনো বিপদে সে ছায়ার মতো পাশে ছিল। আমাকে সুরক্ষিত রেখেছে। আমি ও আদনান কিন্তু কখনো বিয়ের কথা ভাবিনি। তবে চারপাশের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি আমাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

পপি বলেন, ২০১৯ সালে আমার বাসায় অনেক বড় অঙ্কের টাকা চুরি যায়। থানায় জিডি করলাম। আমাদের রমনা থানায় ডাকা হয়। সেদিন আদনানকেও ডাকি। থানায় গিয়ে দেখলাম, আমার ভাইবোনেরা। সেদিন থানায় গিয়ে জানলাম, আমাকে মেরে ফেলার জন্য খুনি ভাড়া করা হয়েছে। আমাকে থানা থেকে বলা হলো, ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি। এরপর জীবন নিয়ে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। মনে হলো, আমি কারও কাছে নিরাপদ নই। ফিল্মের কাজে সবার সঙ্গে মিশেছি ঠিকই কিন্তু আপনজন কেউ ছিল না। বরাবরই আমি পরিবার অন্তঃপ্রাণ মানুষ। অথচ এই আমার কাছে পরিবারের সবাই অচেনা হয়ে গেল। সম্পত্তি ও টাকাপয়সা নিয়ে জটিলতা শুরু হয়। জটিলতার এই পুরো সময়ে আদনান আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছে। কোনো জটিলতাই আমাকে স্পর্শ করতে দেয়নি। আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বলেছিল, ‘আমি আছি, নো টেনশন।’ ওই সময়ে এমন একজন বন্ধুকে যদি না পেতাম, আমার জীবনটাই বিপন্ন হয়ে যেত।

তিনি জানান, ২০২০ সালের দিকে আবার জটিলতা শুরু হয়। বাসা থেকে বের হয়ে পড়ি। আদনানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এরপর আমার জায়গাজমির দলিল, ব্যাংকের কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করি। আদনানই তখন আমাকে বাঁচিয়েছে। পরিস্থিতির কারণে আমরা বিয়ে করতে বাধ্য হই। ২০২০ সালের নভেম্বরে বাসায় কাজি ডেকে বিয়ে করি। আমার আত্মীয়স্বজন ছিলেন। আত্মীয়দের অনেকের নাম এখন বলব না; কারণ, নাম প্রকাশ পেলে তারা আমার মায়েরও শত্রু হয়ে যাবে। এটা সত্য, বিয়েতে আমার মাকে ডাকিনি। হয়তো এটা বিশ্বাস করবে না কেউ, কিন্তু এটাই সত্য, আমার মা চাইতেন না আমি বিয়ে করে সংসারী হই।

পপি বলছেন, বিয়ের পর আমি আমার মতো সংসার শুরু করি। আলাদা থাকি, স্বামীর সঙ্গে ধানমন্ডিতে। আমার সংসার বাঁচানোর জন্য আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর আমার স্বামী যেভাবে চেয়েছে, সেভাবেই জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়েছি। আমি কিন্তু অনেকবার বলেছিও, বিয়ের পর আমি সিনেমা ছেড়ে দেব। আমার স্বামী না চাইলে সিনেমায় কাজ করব না।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল