
(১ বছর আগে) ২৫ মে ২০২৫, রবিবার, ২:২১ অপরাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মামলা বাণিজ্য, মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ ও চোরাচালান সহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিক, মাদক কারবারি ও পুলিশের একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ১ মার্চ বিএনপি নেতাদের মারধরের ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন ওসি বিল্লাল। ঘুষ না দেওয়ায় মামলা নেননি তিনি। এ ছাড়া, যুবলীগ ও কৃষক লীগ নেতাদের কাছ থেকেও ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে মামলায় গ্রেফতার এড়ানো, মামলা না নেওয়া কিংবা নাম বাদ দেওয়ার মতো অপরাধমূলক কাজ তিনি নিয়মিত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাদক কারবারে পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা
ওসি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো মাদক কারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। হোয়াটসঅ্যাপে মাদক কারবারিদের নিয়ে গ্রুপ খুলে সমন্বয় করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, রাতভর তিনি মাদক পার্টিতে অংশ নেন, আর মাদক বেচাকেনা চলে তার নাকের ডগায়।
টোল প্লাজা হয়ে প্রতিনিয়ত ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে পুলিশের ছত্রছায়ায়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ১০ হাজার ইয়াবা আটক হলেও মাত্র ৩০০ ইয়াবার মামলা দেওয়া হয়, বাকি মাদক গায়েব করে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।
চোরাচালান নিরাপদ রুটে পরিণত টোল প্লাজা
টোল প্লাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে এসআই ইসহাককে দ্রুত সেখানে পদায়ন করা হয়। তিনি আগেও সীমান্ত এলাকায় মাদক চক্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিলেন। এখন সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ট্রাকপ্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা মাসোহারা আদায় করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য পাচারে সহায়তা করছেন। এর বড় অংশ যায় ওসি বিল্লালের পকেটে।
থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বড় অঙ্কের মাদক জব্দ হলেও স্থানীয় কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কারণ, তাদের সঙ্গে ওসির আর্থিক চুক্তি রয়েছে বলে অভিযোগ।
ওসির বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান
অভিযোগের বিষয়ে ওসি বিল্লাল হোসেন দাবি করেছেন, “মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। টোল প্লাজা থেকে পাওয়া অবৈধ পণ্যে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।”
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেছেন, “মাদকের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, আশুগঞ্জে এখন ঘুষ ছাড়া মামলা হয় না, আর পুলিশ নিজেই মাদক কারবারিদের রক্ষক হয়ে উঠেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছে এলাকাবাসী।