banglahour

ট্রাম্প বনাম মাস্ক: বন্ধুত্বের পর যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে

বিশ্ব | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

(১ বছর আগে) ৬ জুন ২০২৫, শুক্রবার, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মধ্যে সম্পর্কের নাটকীয় রূপান্তর এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এক সময় যাদের ‘বন্ধুত্ব’ ছিল প্রশাসনিক সুবিধা আর রাজনৈতিক সমর্থনের মেলবন্ধন, এখন তা রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য বাগযুদ্ধে।

হঠাৎ কেন এমন দ্বন্দ্ব?

সবচেয়ে বড় ভাঙনের সূত্রপাত ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক হুমকি বার্তায়। সেখানে তিনি সরাসরি বলেন, “সরকারি বাজেট বাঁচাতে ইলনের সরকারি ভর্তুকি ও চুক্তি বাতিল করাই সবচেয়ে সহজ পথ।” এর জবাবে মাস্কও থেমে থাকেননি। ট্রাম্পের অভিশংসনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, এমনকি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন যে তার স্পেসএক্স প্রকল্প থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ মিশন সরিয়ে নেয়ার কাজও শুরু করবেন।

এর প্রভাবও মিলেছে দ্রুত। বৃহস্পতিবার টেসলার শেয়ার মূল্য কমে যায় প্রায় ১৪ শতাংশ। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন মাস্ক ইঙ্গিত দেন যে ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে রয়েছে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের মামলায় থাকা কিছু অপ্রকাশিত ফাইলে।

ট্রাম্পের ‘ঠাণ্ডা যুদ্ধ’, মাস্কের ‘বড় বোমা’

হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই ইস্যুতে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেন, “মাস্ক আমার বিরুদ্ধে গেছে তাতে সমস্যা নেই, তবে সে সরকারি দায়িত্ব কয়েক মাস আগেই ছেড়ে দিলে ভালো হতো।”

অন্যদিকে মাস্ক এক্স-এ লেখেন, “আমি ৪০ বছর থাকব, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির মেয়াদ মাত্র সাড়ে তিন বছর।” স্পষ্ট বার্তা—এই লড়াইয়ে তিনি দীর্ঘ মেয়াদের কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন।

বন্ধুত্বের ইতিহাস, বিরোধের বর্তমান

মাস্ক একসময় ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট নীতি ও সরকারি কর্মসংস্থানে কাঁটছাঁটের নেতৃত্বে ছিলেন। কিন্তু পরিবেশনীতি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের করছাড় ইস্যু এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে ১৩০ দিনের মেয়াদ শেষ হতেই ওভাল অফিসে এক ‘বিদায় অনুষ্ঠান’ হয়, যেখানে মাস্ককে হোয়াইট হাউসের সোনালী চাবি তুলে দেওয়া হয়। এখন সেই চাবির ‘তালা বদলে গেছে’ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সামনে কী?

ট্রাম্প ইতোমধ্যে সরকারি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মাস্ক রিপাবলিকান বিদ্রোহীদের তহবিল দিতে পারেন, যা নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। আর ডেমোক্র্যাটরা—যদিও মাস্কের প্রতি সদয় নয়, তবুও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সুবিধা নিতে।

ডেমোক্র্যাটিক বিশ্লেষক লিয়াম কের বলেছেন, “এটি একটি জিরো সাম গেম—যেখানে মাস্ক যা করবেন, তার সুবিধা ডেমোক্র্যাটদেরই হবে।”

তবে এখনই এই দ্বন্দ্ব থামবে, এমনটি মনে করছেন না কেউই। বরং এই বাগযুদ্ধ রাজনৈতিক ময়দানে আরো বিস্তৃত হয়ে পড়বে বলেই পূর্বাভাস। আমেরিকার রাজনীতিতে এখন ‘ট্রাম্প বনাম মাস্ক’ হেডলাইন ছাপিয়ে বাকি সবকিছুকে ঢেকে দিচ্ছে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল