
(১ বছর আগে) ৮ জুন ২০২৫, রবিবার, ৮:১০ অপরাহ্ন
গৌহাটি, আসাম | ৮ জুন ২০২৫ — ভয়াবহ বন্যায় ভারতের আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক রাজ্যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত আসামে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৩ জনের। ১২টি জেলার লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে ত্রাণশিবিরে।
ভোটের সময় ৩ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত লাগাতার বর্ষণে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে যায়। বর্তমানে কিছু এলাকায় পানি কমলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ধুবড়ি, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জসহ দক্ষিণ ও পশ্চিম আসামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনো পানির নিচে। কোপিলি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
দক্ষিণ আসামের শ্রীভূমি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২ লাখ মানুষ। কাছাড় ও হাইলাকান্দিতে যথাক্রমে ৫৭ হাজার ও ৭৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে ১৩৩টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ৩৬ হাজার মানুষ। ধান ও সবজির জমি ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কিছু এলাকায় বিপৎসীমার নিচে নামায় ছোট ও মাঝারি নৌচলাচল শুরু হয়েছে। এতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে গতি এসেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যেও ক্ষয়ক্ষতি
অরুণাচল প্রদেশে ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২ জনের। ২৪টি জেলার ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুবনসিরি নদীর পারবর্তী অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মেঘালয়ে ১০টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯০টির বেশি গ্রাম, এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মিজোরামে ধারাবাহিক ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। সেখানে নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিনজন মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী।
নাগাল্যান্ড, মণিপুর, ত্রিপুরা ও সিকিমেও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কিছু এলাকায় পানি কমলেও অন্যত্র আবার বাড়ছে। এখন পর্যন্ত মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালেতে মিলিয়ে মারা গেছেন আরও আটজন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কাজিরাঙ্গা
আসামের বিখ্যাত কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের কিছু অংশও ডুবে গেছে বন্যার পানিতে। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, পানি নামার পর বন্য প্রাণীদের মৃতদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বছর কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।