
(১ বছর আগে) ১০ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বশক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। লন্ডনে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান কৌশলগতভাবে ভারতকে ছাপিয়ে গিয়েছিল, তবে বিশ্বশান্তির স্বার্থে সংযম দেখিয়েছে ইসলামাবাদ।
লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল দাবি করেন, সংঘাতের সময় পাকিস্তান ২০টি ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে নিশানা করেছিল, কিন্তু শুধু ৬টিকে ভূপাতিত করে। তার ভাষায়, “বিশ্ব দেখেছে পাকিস্তান শুধু প্রতিরোধ নয়, শান্তির ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল এক রাষ্ট্র।”
কাশ্মীরসহ ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাই। কিন্তু ভারত আলোচনায় আসতে চায় না বলেই সংকট জিইয়ে আছে।”
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতে পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ সমাধানের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আলোচনার প্রতিশ্রুতির পরই ইসলামাবাদ পিছু হটে।
পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকে স্বীকৃতি দিয়ে বিলাওয়াল বলেন, “যুদ্ধবিরতিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমরা কৃতজ্ঞ।”
ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে জল অস্ত্র বানানোর বিপজ্জনক উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। বলেন, “পানি বন্ধ করা হলে তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল, পাকিস্তান তা মেনে নেবে না।”
পেহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ। বরং আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত।”
বিলাওয়ালের দাবি, ভারত আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে প্রচারণা চালাচ্ছে ও তথ্য বিকৃত করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একযোগে কূটনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল। গত সপ্তাহে তারা ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে ৫০টিরও বেশি বৈঠক করেন। এরপর লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ও এমপিদের সঙ্গে আলোচনাও হয়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন হিনা রব্বানি খার, খুররম দস্তগীর, শেরি রেহমানসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তি।
বিলাওয়ালের ভাষায়, “আমরা যুদ্ধ চাই না। চাই ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই শান্তি। এর সূচনা হতে হবে কাশ্মীর সমস্যা সমাধান দিয়ে।”
???? বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা একদিকে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা, অন্যদিকে ভারতকে আলোচনার টেবিলে টানার চাপ প্রয়োগ। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব সম্প্রদায় এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয়।