
(১ বছর আগে) ১৬ জুন ২০২৫, সোমবার, ২:৫৭ অপরাহ্ন
ঢাকা, ১৬ জুন — ইসরাইল-ইরান চলমান উত্তেজনা রীতিমতো যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। হামলা-পাল্টা হামলার ঘূর্ণিপাকে প্রতিদিন ব্যয় বাড়ছে দুই দেশেই। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া দুই দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
ইসরাইলি পত্রিকা ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর তথ্যমতে, গাজায় চলমান যুদ্ধেই ইসরাইলের খরচ ৪২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, গড়ে প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিরোধে মাত্র এক রাতেই ইসরাইলের ব্যয় হয়েছিল ২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর চলতি বছরের এপ্রিলে আরেক হামলা প্রতিহত করতে ১.০৮ থেকে ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক একজন ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, ইসরাইলের বর্তমান প্রতিদিনের সামরিক ব্যয় প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যার অর্ধেক প্রতিরক্ষা, বাকি অর্ধেক হামলা ও অস্ত্র ব্যবহারের পেছনে ব্যয় হয়।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেটের বড় অংশ চলে যাচ্ছে রিজার্ভ সেনাবাহিনীর পেছনে, যা ইতোমধ্যে ১২.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইরানের দৈনিক সামরিক ব্যয় আনুমানিক ৪৬ কোটি থেকে ৬৫ কোটি ডলারের মধ্যে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এই ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম, কারণ ইরান নিজেই অধিকাংশ অস্ত্র তৈরি করে এবং সেগুলোর দাম অনেক সস্তা। যেমন, ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম যেখানে ১ লাখ ডলার, সেখানে ইসরাইলের একটি অ্যারো ইন্টারসেপ্টরের দাম ৩৫ লাখ ডলার পর্যন্ত।
তবে ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কবলে। যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তাদের সীমিত বাজেটে আরও চাপ বাড়াবে।
ইসরাইলের বাজেট ঘাটতি ইতোমধ্যে জিডিপির ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে ৩.৬ শতাংশে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান তাদের তেল রপ্তানিতে (২০২৩ সালে ৩৫ বিলিয়ন ডলার আয়) অনেকটাই নির্ভরশীল, যা যেকোনো মুহূর্তে আন্তর্জাতিক চাপে কমে যেতে পারে।
গাজা ও লেবাননসহ চলমান ও পূর্ববর্তী সংঘাত মিলিয়ে ইসরাইলের মোট যুদ্ধ ব্যয় ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান এ দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম ব্যয় করলেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের চাপ অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক সক্ষমতার বাইরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।