
(১ বছর আগে) ২০ জুন ২০২৫, শুক্রবার, ২:৪৫ অপরাহ্ন
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাত এখন প্রকাশ্য রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। বিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পালটা হামলায় রক্তাক্ত দুই দেশই। শুরুটা হয় ১৩ জুন, তারপর থেকেই দফায় দফায় আক্রমণ আর পাল্টা প্রতিরোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য।
তবে এই সংঘাত হঠাৎ নয়। ইসরাইল-ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ইতিহাসের শত্রুতার ফল এটি। অথচ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগে ইরান ছিল ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই দেশের মধ্যে ছিল গভীর সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক।
কিন্তু বিপ্লবের পর দেশজুড়ে ইসলামপন্থী শাসন কায়েম হলে বদলে যায় চিত্র। নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির অধীনে ইরান ইসরাইলের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরাইলবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে।
ইরান এখন ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে সরব এবং হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। অন্যদিকে, ইসরাইল বরাবরই ইরানকে “বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের বড় পৃষ্ঠপোষক” হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে তেলআবিব।
দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে চলে আসছে ছায়াযুদ্ধ— গুপ্তহত্যা, সাইবার হামলা ও গোপন অভিযানের মাধ্যমে। কিন্তু চলমান সংঘাত সেই ছায়াযুদ্ধকে সরাসরি সংঘর্ষে রূপান্তর করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত শুধু ইরান-ইসরাইল নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ঘিরে। চীন ও রাশিয়া সতর্ক নজরে রেখেছে পরিস্থিতি।
প্রকাশ্যে যুদ্ধ, কিন্তু শেকড় বহু পুরনো—ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্ব তাই আর শুধু দুই দেশের নয়, হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।