
(১ বছর আগে) ২৪ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার, ৫:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩৭ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ গ্রামের নাম এখন জেলার গণ্ডি পেরিয়ে বইপ্রেমী মহলে সমাদৃত। কারণ, এই গ্রামে সরকারি বা বেসরকারি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকলেও এক তরুণের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী পাঠাগার—‘মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার’।
এই পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী, একজন তারুণ্যদীপ্ত সমাজকর্মী, বইপ্রেমী ও জ্ঞানের দিশারী। ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল নিজের বাড়ির এক কোণে শুরু করেছিলেন বই সংগ্রহের কাজ। সেই ছোট উদ্যোগই আজ মহিনন্দ-তাড়াইল সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে নতুন ভবনে, প্রায় ৫ হাজার বইয়ের এক অনন্য জ্ঞানকেন্দ্রে।
জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছে বই, জাগিয়ে তুলছে সচেতনতা
সাদীর পাঠাগারে রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের জীবনী, নজরুল-রবীন্দ্র রচনাবলী, সাহিত্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, কৃষি, শিশু ও যুব কর্নার। রয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার লেখকদের জন্য ‘কিশোরগঞ্জ গ্যালারী’ এবং স্থানীয় লেখকদের জন্য ‘মহিনন্দ গ্যালারী’। এছাড়াও বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের শতাধিক সনদ ও সম্মাননা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি চিত্র গ্যালারিও।
নিজ উদ্যোগে পাঠাগারে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম চালু করেছেন, পাশাপাশি বয়স্কদের জন্যও রয়েছে শিক্ষা কেন্দ্র। শুধু জ্ঞান নয়, সাদীর তৈরি যুব উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় শতাধিক তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলেছেন।
সাদীর প্রেরণা—এক কবিতার লাইন
আমিনুল হক সাদী বলেন, “বিখ্যাত কবি শেখ সাদীর বইয়ে পড়েছিলাম, ‘আমি মরে যাবো কিতাবের উপর, মৃত্যুর পর আমার কাফন হবে কিতাবের কাগজ দ্বারা’। এই লাইনটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই থেকেই পাঠাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি, যা আজ বাস্তব।”
প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী ও কর্মকর্তারা
মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী বলেন, “আমিন সাদীর এই পাঠাগার আমাদের ইউনিয়নের নয়, বরং কিশোরগঞ্জ জেলার গর্ব।”
জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক আজিজুল হক সুমন জানান, “এই পাঠাগারটির কার্যক্রম দেখে আমি অভিভূত। পাঠাগারটির উদ্যোগে জেলার শতাধিক পাঠাগারের ইতিহাস নিয়ে একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে।”
সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ মিয়া বলেন, “এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমি পাঠাগারটিকে বই উপহার দিয়েছি এবং সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।”
ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি অনুদান, সম্মাননা ও স্বীকৃতির মাধ্যমে এই পাঠাগারকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। জ্ঞানের আলো ছড়ানোর এই মহৎ উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পাঠক ও এলাকাবাসী।