
(১ বছর আগে) ২৪ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার, ৭:০৮ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলের রেলপথে দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির শঙ্কা। জেলার বিভিন্ন রেলক্রসিং এখন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গেটম্যানহীন ও সিগন্যালবিহীন এই রেলক্রসিংগুলোতে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন হাতিয়া রেলক্রসিংয়ে দেখা যায়, একটি আন্তঃনগর ট্রেন পার হওয়ার অপেক্ষায় মোটরসাইকেল আরোহী দাঁড়িয়ে রয়েছেন নিজ দায়িত্বে। নেই কোনো সিগন্যাল বাতি, গেটম্যান কিংবা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা।
স্থানীয় রশিদ শেখ বলেন, "ট্রেনের হুইসেল শুনেই বুঝতে পারি ট্রেন আসছে। তখন নিজ দায়িত্বে দাঁড়িয়ে থাকি। অনেকবার অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।"
টাঙ্গাইলের যমুনা পূর্ব রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভূঞাপুর, চন্দা, জামালপুর পর্যন্ত অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং রয়েছে—কিন্তু বেশিরভাগেই নেই কোনো গেটম্যান বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। ফলে রেলগাড়ির সময়মতো আগমন জানারও উপায় থাকে না।
স্থানীয় মাহমুদুল হাসান বলেন, "এখানে ট্রেনের গতি বেশি থাকে, কিন্তু কোনো গেট নেই। গেটম্যান না থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।"
কামাল শেখ, বাসিন্দা টেপাকান্দি, বলেন, "প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করি। দুর্ঘটনার ভয়ে পরিবারও চিন্তায় থাকে।"
এক অটোরিকশা চালক রুবেল মিয়া জানান, "গেট থাকলে এত দুর্ঘটনা হতো না। অনেকেই বুঝতে পারে না ট্রেন আসছে কিনা।"
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে এসব অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে। তবুও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি।
ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, "জনবল সংকটের কারণে সব রেলগেটে গেটম্যান দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
✅ গেটম্যান ও সিগন্যাল না থাকায় ট্রেন আসার আগাম বার্তা পাওয়া যায় না
✅ পথচারীদের সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় নিজেদের সচেতনতার ওপর
✅ দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ অনুপস্থিত
✅ দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অবহেলা করছে বলে অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে গেটম্যান নিয়োগ ও স্বয়ংক্রিয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হোক। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।