
(১ বছর আগে) ২৫ জুন ২০২৫, বুধবার, ৯:০৭ অপরাহ্ন
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কুহারদাহ-নেহালপুর এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা কৃষিজমিতে অনুমতি ছাড়া মৎস্য ঘের নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জলাধার ও প্রাকৃতিক খালের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে—ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।
কৃষকরা বলছেন, জমির প্রকৃত মালিকদের সম্মতি ছাড়াই ঘের নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এতে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকে জমিতে চারা রোপণ করেও তা রক্ষা করতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষক আবুয়াল সরদার বলেন, “জমিতে পানি আটকে আছে, সব চারা পচে গেছে। আগে কখনো ঘের ছিল না, এবার আমাদের অজান্তেই শুরু হয়েছে।”
আরেক কৃষক চান মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, “আমার বরগা নেওয়া জমিও দখল হয়েছে। বাধা দিলে মামলা ও ভয় দেখায়।”
সোমবার বিকেলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। বক্তারা বলেন, অন্তত ১০টি কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে, যা কৃষিকাজ এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ সময় আবুয়াল সরদার, মোশারেফ মাতুব্বর, মো. জালাল, রাবেয়া বেগমসহ অনেকে বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, জমি দখলের সময় স্থানীয়দের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষে সাদিক শিকদার বলেন, “এই এলাকায় আমার ও আমার আত্মীয়দের বহু বছরের নিজস্ব জমি রয়েছে। আমরা শতাধিক জমির মালিকের লিখিত সম্মতিতেই ঘের করেছি এবং ক্ষতিপূরণও দিয়েছি। কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।”
তবে স্থানীয়দের একাংশ এসব দাবি অস্বীকার করে বলেন, অধিকাংশ জমির মালিক ঘেরের বিষয়ে কোনো সম্মতি দেননি।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ বলেন, “আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে এবং বহু পরিবার জীবিকার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তারা পরিস্থিতি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।