
(১ বছর আগে) ২৬ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে “সারাবিশ্ব একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের” পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন ২০২৫) সকাল ১০টায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে উক্ত বিতর্কিত বিষয়ের উপর একটি বাহাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রচলিত নিয়মে রোজা ও ঈদ পালনকারীরা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় উত্তেজনার সূচনা হয়।
এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএনও মোঃ রিয়াজুর রহমান অনুষ্ঠানটি খোলা ময়দানে না করে তার অফিস কক্ষে উভয় পক্ষের মনোনীত আলেমদের নিয়ে আলোচনার আয়োজন করেন। বাইরে উপস্থিত দুই পক্ষের শত শত অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও ইউএনও’র কৌশলী ভূমিকা ও দৃঢ় অবস্থানের কারণে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়রা ইউএনও’র এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বাহাসে মূল বিতর্কের জন্ম দেন বদরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিন। তিনি সৌদির সাথে মিলিয়ে রোজা, ঈদ ও কোরবানির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কেউ যদি তার এই অবস্থান ভুল প্রমাণ করতে পারেন, তিনি ইমামতির দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন স্থানীয় হক্কানী ওলামায়ে কেরাম।
বাহাসে অংশগ্রহণ করেন দেশের খ্যাতনামা আলেমগণ—মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি সাইফুল্লাহ হাবিবি, মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস। অপরপক্ষে ছিলেন চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম ও ড. মুফতি একেএম মাহবুবুর রহমান।
বিতর্কে মুফতি লুৎফুর রহমান এক প্রশ্ন তুলে ধরেন:
“সৌদিতে চাঁদ দেখা গেলে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে যারা সোমবার রাত পার করছে তারা কিভাবে রোজা রাখবে? তারা যদি মঙ্গলবার রোজা রাখে তবে সৌদির আগেই রাখে, আর বুধবার রাখলে চাঁদ দেখার পরও দেরিতে রাখে—এর ব্যাখ্যা কোরআন ও সুন্নাহ থেকে দিতে হবে।”
এই প্রশ্নের সদুত্তর কেউ দিতে না পারায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং শেষে ইউএনও আলোচনা মুলতবি ঘোষণা করেন।
বাহাস শেষে ইউএনও ঘোষণা দেন,
“আমাদের দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন রয়েছে। তারা ধর্মীয় বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটাই সবাইকে মানতে হবে। মেহেন্দিগঞ্জে আগের মতই শান্তিপূর্ণভাবে রোজা ও ঈদ পালিত হবে। কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারবে না।”
বাহাসে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বরিশাল বাজার রোড মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হালিম ও বরিশাল জেলা মডেল মসজিদের খতিব মুফতি মুনিরুল ইসলাম।
উপস্থিত ছিলেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন, জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা শহীদুল ইসলাম, স্থানীয় আলেম মাওলানা মানসুর আহমেদ, মুফতি আব্দুল কাদের, মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মুফতি আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।