
(১ বছর আগে) ২৬ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ৭:৩৮ অপরাহ্ন
ভৈরবের জেড. রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মারজিয়া বেগম এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি শুধুমাত্র কলেজের অফিস সহকারীর একটি প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে। বিষয়টি স্বীকার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মারজিয়া বাশগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি ২,৫০০ টাকা জমা দিয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহে গেলে অফিস সহকারী মো. শফিক তাকে আশ্বস্ত করেন যে, পরীক্ষার আগেই প্রবেশপত্র দেওয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর একদিন আগে জানানো হয়, ফরম পূরণের সময় ‘ডাবল ক্লিক’ করার ভুলে তার ফরম বাতিল হয়ে গেছে এবং এ কারণে প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি।
মারজিয়া জানান, "আমি নিয়ম অনুযায়ী ফি দিয়ে স্বাক্ষর করেছিলাম। প্রস্তুতিও ছিল ভালো। টেস্ট পরীক্ষায় ৪.০৭ পেয়েছিলাম। হয়তো জিপিএ-৫ পেতাম। কিন্তু এই একটি ভুল আমার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।"
ঘটনার পর কলেজের শিক্ষকরা মারজিয়ার বাড়িতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাকে পরবর্তী বছর বিনা ফিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
মারজিয়ার বাবা স্বপন মিয়া বলেন, "শিক্ষকরা ভুল স্বীকার করেছেন। তাদের সম্মান রেখে আইনি ব্যবস্থা নিইনি, কিন্তু এই ভুলের দায় তো আমরা কেন নেব?
কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, "কম্পিউটারে ডাবল ক্লিক করায় ফরম বাতিল হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেও সমাধান করা সম্ভব হয়নি।"
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফরিদুল হাসান জানান, সমাজকর্ম বিষয়ের প্রভাষক মো. হারুণ মাহমুদ সুফলকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন, প্রভাষক আরিফুজ্জামান (উচ্চতর গণিত) এবং প্রভাষক মাহবুবা রহমান (কৃষি শিক্ষা)। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন বলেন, "এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস.এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, "প্রবেশপত্র যথাসময়ে বিতরণ করলে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকে। অফিস সহকারী আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি, যা দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।
এই ঘটনা শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক গভীর আস্থাহীনতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—একটি টেকনিক্যাল ভুল কীভাবে একটি শিক্ষার্থীর পুরো এক বছরের স্বপ্নকে ভেঙে দিতে পারে? এখন দেখার বিষয় তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কী হয়।