
(১ বছর আগে) ৩০ জুন ২০২৫, সোমবার, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৮ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নে যুবদল নেতা পরিচয়ধারী মো. হামিদুল ফকিরের বিরুদ্ধে ওঠেছে একাধিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ বাবদ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ, অনুমতিবিহীন জমিতে গাছ লাগানো ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, এবং প্রভাব খাটিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন তিনি।
হামিদুল ফকির নিজেকে নিকরাইল ইউনিয়ন যুবদলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিলেও যুবদলের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি একই ইউনিয়নের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম (দিলিপ) ফকিরের ছোট ভাই হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তার প্রভাব প্রতিপত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
একাধিক সূত্র জানায়, হামিদুল ফকির শমশের ফকির ডিগ্রি কলেজের জমিতে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি কলেজ প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ রোপণ করে দখলদারি করছেন।
ভুক্তভোগী নিকলা গ্রামের বাসিন্দা হবি মেম্বার বলেন, “চাকরি দেওয়ার কথা বলে হামিদুল ফকির আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু চাকরি তো দেননি, বরং টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে ঘুরাতে থাকেন।
শমশের ফকির ডিগ্রি কলেজ ও নিকরাইল মমতাজ ফকির বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, “ফরম ফিলাপ করে দেওয়ার নাম করে তিনি আমাদের কাছ থেকে মোট ২২ হাজার ৩’শ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু ফরম জমা দেননি। এখন টাকা চাইতে গেলে হুমকি দিচ্ছেন।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন ইউপি সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “তিনি ইউপির কোনো পদে নেই, কিন্তু পরিষদের কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে থাকেন। এমনকি চাল বিতরণের সময় প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করে চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে হামিদুল ফকির বলেন, “কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর আমাকে অনুরোধ করে। আমি চেষ্টা করেও পারিনি, তাই ধীরে ধীরে টাকা ফেরত দিচ্ছি। আর কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে গাছ লাগাতে অনুমতি দিয়েছে।
তবে এই বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আক্তার উজ্জামান বলেন, গাছ লাগানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমাদের জানার কথা থাকলেও আমরা জানি না। তাছাড়া প্রতিষ্ঠান থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে— বাইরের কেউ কোনো অর্থ লেনদেন করতে পারবে না।
নিকরাইল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুব আলম বেন্টু বলেন, হামিদুল ফকির যুবদলের কোনো কমিটির সদস্য নন। তাঁর ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না।
এলাকাবাসীর দাবি, অনিয়ম ও প্রতারণার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রভাবশালীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা হোক।