
(১ বছর আগে) ২ জুলাই ২০২৫, বুধবার, ৯:১৩ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আবাসিক এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ মশার কয়েল কারখানা। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পরিচালিত এসব কারখানা যেমন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে, তেমনি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
কারখানার অবস্থান ও অবস্থা:ভৈরব শহরের জগন্নাথপুর, লক্ষীপুর, তাতারঁকান্দি, কমলপুর, পঞ্চবটি, ঘোড়াকান্দা ও ভৈরব বাজার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক কয়েল কারখানা। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মাত্র ২২টি কারখানার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকিগুলো চালানো হচ্ছে সম্পূর্ণ অননুমোদিতভাবে।
এসব কারখানায় বিএসটিআই অনুমোদন নেই, নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। নিয়মিতই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি চরমে:অবৈধভাবে উৎপাদিত কয়েলে ব্যবহৃত কেমিক্যাল থেকে নির্গত ধোঁয়ায় শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, চোখ জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, এমনকি লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন,
এই কয়েলে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থান:
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মমিন ভূঁইয়া বলেন,আবাসিক এলাকায় কয়েল কারখানার জন্য কোনোভাবেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। যাচাই-বাছাই করে বৈধ আবেদনকারীদের বিবেচনা করা হবে। শিগগিরই অবৈধ কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন জানান,আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুইবার অভিযান চালিয়ে অনুমোদনবিহীন কয়েল কারখানাগুলোর মালিকদের জরিমানা করেছি। আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, দেশে অনুমোদিত কয়েল কারখানার সংখ্যা ১২৫টি। তবে অননুমোদিত কারখানার প্রকৃত সংখ্যা অজানা। এক উপ-পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,অননুমোদিত কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে বিএসটিআই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দাবি:অবৈধ কয়েল কারখানার দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৈধ কারখানাগুলোও। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,কারখানাগুলো দিনের পর দিন খোলা জায়গায় কেমিক্যাল ব্যবহার করে কয়েল তৈরি করছে। গন্ধে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অথচ কেউ যেন দেখার নেই!