
(১ বছর আগে) ৭ জুলাই ২০২৫, সোমবার, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
বর্তমানে মীর জাফরের বংশধরেরা মুর্শিদাবাদেই বাস করেন। তাঁরা কেউ কেউ এই গ্লানির ইতিহাস থেকে নিজেদের আলাদা করতে চান, আবার কেউ কেউ অকপটে মেনে নেন পূর্বপুরুষের দোষ। অস্বীকার নয়, বরং স্বীকার মীর জাফরের একাধিক প্রপৌত্র বা বংশধর আজও স্থানীয়ভাবে পরিচিত। কয়েক বছর আগে একটি প্রামাণ্যচিত্র ও সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, তাঁদের একজন বলেছিলেন:আমরা জানি, পূর্বপুরুষের কাজ দেশ বা জাতির পক্ষে ছিল না। এটা গর্ব করার মতো নয়। তবে আমরা এটাও বলি ঐ সময়কার রাজনীতি ও কূটনীতি আজকের চোখে বিচার করা ঠিক নয়। নিন্দা বা সমর্থন নয়, ইতিহাস হিসেবে দেখার আহ্বান কয়েকজন বংশধর মনে করেন, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ইতিহাসের অংশ, এটিকে গালি হিসেবে ব্যবহার না করে শিক্ষার উপাদান হিসেবে দেখা উচিত। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন নিমকহারাম’ শব্দটি আমাদের পারিবারিক নামের সঙ্গে জুড়ে গেছে। আমরা আর পালিয়ে বেড়াই না। আমরা ইতিহাসকে মেনে নিই। বসবাস এখন কেমন? মীর জাফরের বংশধরেরা আজ আর রাজপ্রাসাদে থাকেন না। মুর্শিদাবাদের ‘মতিঝিল’ বা পুরনো ইমারতগুলোর আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তাঁদের বাস। কেউ কেউ ব্যবসা করেন, কেউ শিক্ষক, কেউ মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী।
মীর জাফরের বংশধরেরা নিজেরাই জানেন, তাঁদের নাম বাংলাদেশের বা ভারতের জাতীয় ইতিহাসে এক বেদনার অংশ। তবে আজকের প্রজন্ম এই ইতিহাস নিয়ে লজ্জা নয়, বরং সতর্কতা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে এগোতে চায়।
তাঁদের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসে এই কথা—
“আমরা ইতিহাস বদলাতে পারি না, কিন্তু ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।”