
(১ বছর আগে) ৭ জুলাই ২০২৫, সোমবার, ৯:২২ অপরাহ্ন
২ মে ২০২৫, বগুড়ায় আয়োজিত এক কনফারেন্সে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে বিশ্বের মধ্যে “সর্বোৎকৃষ্ট” হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এই উপলক্ষে জানানো হয়, সরকার একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, ব্যবসা-বান্ধব ও জনগণমুখী টেলিকম লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০২৫ চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে। এটি এমন একটি নীতি, যা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা ITU, GSMA ও অন্যান্য গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে। এই পলিসি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের বিদ্যমান লাইসেন্সিং কাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
সংস্কারের অন্যতম বড় দিক হচ্ছে আইআইজি, আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, আইওএফ-সহ অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগী স্তরগুলো ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করা হবে ২০২৭ সালের পর আর লাইসেন্স নবায়ন নয় ওইডিএইচ নক্সি জাতীয় অদ্ভুত লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে, যা বিটিআরসি’র পূর্বতন দুর্বল মনিটরিংয়ের ফাঁক গলে তৈরি হয়েছিল মোবাইল অপারেটরদের বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক ট্রাফিক মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে পাঠানোর নিয়মও বাতিল হবে ৫ পয়সা প্রতি মিনিট গ্রাহকের পকেট থেকে খরচ যেত ওই মধ্যসত্ত্বার কারণে এটি রোধ হচ্ছে।
বিশেষত সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে তৈরি ‘IOF সিন্ডিকেট’ এর মাধ্যমে প্রতি মিনিটে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে ৮০–৯০% রাজস্ব লোপাট হয়েছিল।
সরকারের দাবি এই সিন্ডিকেট বিগত ১২ বছরে ৮,০০০ কোটির বেশি রাজস্ব ক্ষতি করেছে।
এখন নতুন নিয়মে লাইসেন্সধারীরা যদি পূর্বের বকেয়া মিটাতে চায়, তাহলে ৫০% তাৎক্ষণিক পরিশোধ, বাকি ৬–১২ মাসে বকেয়া থাকলে কোনো মালিকানা পরিবর্তন, লাইসেন্স নবায়ন, শেয়ার হস্তান্তর বা কোম্পানির নাম পরিবর্তন করা যাবে না।
২০১০ সালের পর মোবাইল অপারেটরদের ফাইবার স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা ছিল, যার সুযোগে দুইটি বিশেষ কোম্পানি পুরো জাতীয় ব্যাকবোন একচেটিয়া দখলে নিয়েছিল।
এই অবকাঠামোতে শত শত কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ হলেও তার অ্যাকাউন্টেবিলিটি ছিল না। নতুন নীতিমালায়: জাতীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক উন্মুক্ত হবে নতুন অপারেটররা প্রবেশ করতে পারবে বিদ্যমান একচেটিয়া কোম্পানিগুলোর অযৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ক্ষমতা খর্ব করা হবে।
আইএসপিদের পূর্ণ Deregulation না করে, তাদের ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সুবিধা বজায় রেখে ‘লাইট টাচ লাইসেন্স’ কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তারা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারবে, কিন্তু সরকারি সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান ন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ ব্যবহার মাত্র ৭–৮ Tbps হলেও বাস্তবিক চাহিদা ২০–৩০ Tbps। আগামী ১০ বছরে এই চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৮০ থেকে ২০০ Tbps—বিশ্বমানের ডিজিটাল সার্ভিস সিস্টেম চালু করতে হলে এখনই ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং লাইসেন্সিং স্ট্রাকচারে বিনিয়োগ ও সংস্কার জরুরি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিটিআরসি, আইসিটি বিভাগ এবং এনটিটিএন, আইআইজি, আইসিএক্সসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ৩-স্তরের সরলীকৃত লাইসেন্সিং ফ্রেমওয়ার্ক চালু হচ্ছে। এটি কর কমাবে, মূল্য কমাবে এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে সহজ করবে। বিশেষ করে ৫G বাস্তবায়ন, IoT, রোবোটিক সার্জারি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ইত্যাদি সম্ভব হবে এই সংস্কারের মাধ্যমে। এই সংস্কার একটি “অন্তর্বর্তীকালীন” সরকারের হলেও, এর ভিত্তি দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবসম্মত। জনগণের স্বার্থে করা এই পরিবর্তন একদিকে যেমন দৃষ্টান্তমূলক, তেমনি রাজনৈতিক সাহসিকতার প্রতিফলন। সাংবাদিকদের ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এই সংস্কারের সত্য চিত্র তুলে ধরতে এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।