
(১ বছর আগে) ৭ জুলাই ২০২৫, সোমবার, ৯:২৮ অপরাহ্ন
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় ও পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন না করে সত্য ও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে জাতিকে জানাতে হবে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেন বিভ্রান্তি নয়, সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে এই দায় সরকারের।
বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম সরাসরি অভিযোগ করেন,
বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনায় রণাঙ্গনের কোনো বিশদ বর্ণনা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম ও ত্যাগ নেই, শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ছবি ও তথ্যে কেন্দ্রিক অতিরঞ্জন আছে।তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’ নামে একটি গবেষণা প্রকল্পে ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কার্যত কোনো গবেষণা হয়নি। উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন,শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সুবিধাভোগী শ্রেণিতে পরিণত করেছিলেন। ট্রাস্টের সম্পদ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। দলীয়করণ হয়েছে স্বাধীনতার মূল ইতিহাসের। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন অরক্ষিত ও মূল্যবান সম্পদের উল্লেখ করে বলেন
এই সম্পত্তিগুলোর সদ্ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে বা ব্যবহৃত হয়েছে দলীয় স্বার্থে।
প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দেন কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নে একজন স্বাধীন পরামর্শক দ্রুত নিয়োগ করা হবে পরামর্শকের সুপারিশ অনুযায়ী একটি পুনর্গঠন কমিটি গঠন করা হবে ট্রাস্টের আওতায় থাকা সম্পত্তিতে কী কী উদ্যোগ (এন্টারপ্রাইজ) গড়া যেতে পারে, তার রূপরেখা তৈরি করা হবে। তিনি বলেন এই ট্রাস্টকে আবার জীবন্ত করতে হবে। জনগণের স্বার্থে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের জন্য। বৈঠকে আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা ও পূর্বের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম উপস্থাপন করে মন্ত্রণালয়।
প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি প্রকল্প যেন দেশের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে। ইতিহাসের নাম করে দলীয় প্রচার নয়, চাই প্রমাণভিত্তিক জাতীয় স্মৃতি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিগত এক দশকে এর বেশিরভাগ কার্যক্রম দলীয় প্রভাব এবং বিতর্কিত তথ্য পরিবেশন নিয়েই সমালোচিত হয়েছে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই মন্ত্রণালয়কে সংস্কার করে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেই মনে করা হচ্ছে।