
(১ বছর আগে) ৭ জুলাই ২০২৫, সোমবার, ১১:১৪ অপরাহ্ন
ঢাকার ধামরাই উপজেলার জয়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে সাড়ে ৩ বছরের আয়ান নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শিশু আয়ান দক্ষিণ জয়পুরা এলাকার জামান মোল্লা ও আখি আক্তারের একমাত্র সন্তান। বেলা দেড়টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল জোবায়ের কনস্ট্রাকশন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও অসতর্কতার কারণেই নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকটি খোলা অবস্থায় ছিলো, যার ফলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর সেপ্টেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হলেও টেন্ডার জটিলতায় তা বন্ধ থাকে। এরপর ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল নতুন করে কাজ শুরু হলেও নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকটি ঢেকে না রাখা এবং অরক্ষিত অবস্থায় রাখার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।আয়ানের পিতা জামান মিয়া জানান, “সকাল সাড়ে ১২টার দিকে আমার ছেলে খেলতে গিয়ে বিদ্যালয়ের পাশে নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক ঘণ্টা পর সেখানেই নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানায়, সে আর নেই।নিহতের মামা রউফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় সেপটিক ট্যাংক রাখা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। আজ আমার ভাগ্নে মারা গেল, কাল আরেকজনের হতে পারে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, সেপটিক ট্যাংকে বৃষ্টির পানি জমে ছিল। কাজ চলমান ছিল। সকালেও ঠিকাদার এসেছিল।” তবে অরক্ষিত অবস্থায় খোলা রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবসময় দেখভাল করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বাদল হোসাইনকে একাধিকবার ফোন করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্কুল পরিচালনা কমিটিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আর না ঘটে।