
(৩ বছর আগে) ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ৪:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৯:২৭ অপরাহ্ন
ঢাকা: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চীন বাংলাদেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড তথা মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন অনেক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ চীনের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বাণিজ্যমন্ত্রী আজ (০২ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিস রুমে ঢাকায় নবনিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও উইয়েন (ণধড় ডবহ) এর সাথে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একশতটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে উঠছে। এর অনেকগুলোর কাজ এখন প্রায় শেষ। বাংলাদেশ আরও চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে বলেন মন্ত্রী।
চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যাবধান অনেক বেশি। চীনে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশের বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান বেশ ভালো। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এ্যাগ্রোবেজ শিল্প কল-কারখানা স্থাপন খুবই প্রয়োজন এবং এখানে বিনিয়োগ লাভজনক হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের বিনিয়োগকারীদের নিয়ে উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন করলে এ্যাগ্রো সেক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা সহজ হবে। উত্তরাঞ্চলের সাথে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে, অল্প কিছুদিনের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।
এছাড়া, বাংলাদেশের, চামড়া, আইসিটি. লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিনিয়োগ খুবই সম্ভবনাময়। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ সেক্টরে বিনিয়োগ চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশ এ সেক্টর থেকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির প্রস্তুতি নিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও উইয়েন বলেন, বাণিজ্য ও অর্থনৈকি ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে মেঘা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে চীন আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে চীন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবে। এছাড়াও চীন বাংলাদেশের পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে প্রস্তত। বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে চীন ৯৮ ভাগ পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট করতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। বাংলাদেশে স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের বিষয়ে চীন খুবই আগ্রহী। আগামী নভেম্বর মাসে চীনের সাংহাইতে অনুষ্ঠিতব্য চায়না ইমপোর্ট ফেয়ারে বাণিজ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, মার্চে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ সামিটে চীন গুরুত্ব দিয়ে অংশ গ্রহণ করবে। আগামীতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন করবে, তখন বিভিন্ন দেশ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে পিটিএ বা এফটিএ এর মত বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পের অনেক পণ্য চীন থেকে আমদানি করতে হয়, এ সেক্টরে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। সংগত কারনেই আমাদের তৈরী পোশাক পণ্যের প্রয়োজনীয় মালামাল আমদানিও বাড়বে।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করেছে ৬৮৩.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে ২৬,২৫৩.০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।
এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) নূর মো. মাহবুবুল হক উপস্থিত ছিলেন।