
(১ বছর আগে) ১১ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার, ২:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৫ অপরাহ্ন
প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক কর্মোদ্যোগ আর জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে পালিত দিবস। এই দিনটিতেই জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সম্মেলন (United Nations Conference on the Human Environment) শুরু হয়েছিল। এই সম্মেলন হয়েছিল ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৫ থেকে ১৬ জুন অবধি। এই সম্মেলনে ওই বছরই চালু করেছিল জাতিসংঘের সাধারণ সভা। তখন থেকেই প্রতি বছর এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি প্রথম পালিত হয় ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে। প্রতি বছরই দিবসটি আলাদা আলাদা শহরে, আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হয়। ২০২৩ সালে প্লাস্টিক-দূষণ বন্ধের আহ্বানে ‘প্লাস্টিক দূষণ সমাধানে শামিল হই সকলে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারাবিশ্বে দিবসটি পালিত হয়। উত্তর গোলার্ধে দিবসটি বসন্তে , আর দক্ষিণ গোলার্ধে দিবসটি শরতে পালিত হয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিকমতো বজায় রেখে মানুষ যাতে এই পৃথিবীর বুকে অন্যান্য সমস্ত জীবের সাথে একাত্ম হয়ে এক সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের উদ্দেশ্য। এ বছর ও ৫ জুন ২০২৫ আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এবছর আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা (International Environmental Organization - IEO) “সততায় প্রযুক্তির সংমিশ্রণ” (Sustainability through Technology Integration) এই বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যা পরিবেশ রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ মিলিত হয়ে বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকমুক্ত উদ্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নদী-প্রকৃতি সংরক্ষণ, এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করছে।
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ু ও জলদূষণ, বন্যপ্রাণী বিলুপ্তি এবং বনভূমি ধ্বংসের মতো বিভিন্ন পরিবেশগত সংকট গুরুতর মাত্রায় প্রবলতর হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বেড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দ্বীপ রাষ্ট্রসহ নিম্নভূমি দেশগুলো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্লাস্টিক দূষণ ও অবৈধ কাঠচোরাসহ বননিধনও পরিবেশের বড় হুমকি।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা বলেছে, “পরিবেশ রক্ষা করাই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রথম ধাপ। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও সচেতনতা ছাড়া পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।”
বিশ্ব নেতারা ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সবাই মিলিত হয়ে পরিবেশবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ এবং তার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি আগামী কয়েকদিন বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, সমাবেশ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাবে।