
(১ বছর আগে) ১৪ জুলাই ২০২৫, সোমবার, ৬:২৩ অপরাহ্ন
খুলনার ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া এলাকায় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের বাধায় সরকারি জলমহলে মাছ ধরতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন গোনালী মৎস্য সমবায় সমিতির সদস্যরা। প্রায় এক মাস ধরে জলাশয়ে না যেতে পারায় লক্ষাধিক টাকার মাছ মরে ভেসে উঠেছে। বাকি মাছেরও একই পরিণতি আশঙ্কা করছেন জেলেরা।ভুক্তভোগী বকুল সরকার ও মোহন মণ্ডল জানান, বাংলা ১৪৩১ সাল থেকে ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত সময়কালের জন্য তারা সরকারিভাবে গগনার খাল নামে পরিচিত একটি ১৫ একরের বদ্ধ জলাশয় ইজারা নেন। পাঁচ লাখ টাকা লোন নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। রুই, কাতল, মৃগেল, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছ বড় হয়ে উঠেছিল। ইতোমধ্যে একবার মাছ তুলে বিক্রি করে খাবার ও পরিচর্যার ব্যয় মেটান। আশা ছিল অবশিষ্ট মাছ তুলে লোন পরিশোধ করে লাভবান হবেন।কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন। তারা জেলেদের হুমকি দিয়ে জলাশয়ে নামা নিষিদ্ধ করেন এবং মারধরের ভয় দেখান। ফলে জেলেরা ভয়ে মাছ ধরতে পারছেন না। ফলে এক মাস ধরে পরিচর্যার অভাবে পানিতে গ্যাস সৃষ্টি হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। ভেসে ওঠা মৃত মাছের দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হয়ে পড়েছে।পুরঞ্জন মণ্ডল ও যতীন্দ্রনাথ সরকার জানান, মাছ বিক্রি না হলে তারা সমিতির লোন শোধ করতে পারবেন না, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটবে। জেলে পরিবারগুলোর নারীরাও এ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের পরিশ্রমে চাষ করা মাছ মারা যাচ্ছে, কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। জেলেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও সঠিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমীন জানান, জলাশয় যথাযথ নিয়মে ইজারা দেওয়া হয়েছে। যারা বৈধভাবে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছে, তাদের দখল বজায় রাখা এবং মাছ আহরণে সহায়তা করাই প্রশাসনের দায়িত্ব। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলেদের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রুটি-রুজির একমাত্র ভরসা মাছ চাষ—সে অধিকার ফিরে পেতে দিন গুনছে হতদরিদ্র জেলে পরিবারগুলো।