
(১ বছর আগে) ১৬ জুলাই ২০২৫, বুধবার, ৮:০৯ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীর মহিপুরে গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে এক সুস্থ শিশুকে ‘জটিল রোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক ভুল রিপোর্ট এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে বারবার রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে তারা। ভুক্তভোগী নুর আলম জানান, তিনি তার ৫ বছর বয়সী ছেলে তানিম ইসলামকে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী CBC (Complete Blood Count) টেস্ট করাতে গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে যে রিপোর্ট তাকে দেওয়া হয়, তা দেখে চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা ‘চরম আশঙ্কাজনক’ বলে মন্তব্য করেন এবং সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সন্দেহবশত নুর আলম ছেলেকে অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে একই টেস্ট করালে রিপোর্ট সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আসে। পরে তিনি প্রতিবেশী আল মামুনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিকে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুললে রিসিপশনিস্ট মো. রানা অসদাচরণ করেন এবং আল মামুনকে মারধরের জন্য তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ভুল রিপোর্টটি ফিরিয়ে নিয়ে নতুন আরেকটি রিপোর্ট ধরিয়ে দেন। অভিযোগ সম্পর্কে মো. রানা বলেন, চাপে ছিলাম, রোগীর তাড়াহুড়ায় ভুল হয়েছে,” এবং প্রতিবেদককে নিউজ না করার অনুরোধ করেন। ভুল রিপোর্টে শিশুর WBC কাউন্ট (শ্বেত রক্ত কণিকা) শূন্য দেখানো হয়, যা ডাক্তারদের মতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তিতে সম্ভব নয়। একজন এমবিবিএস চিকিৎসক বলেন,CBC রিপোর্টে WBC কাউন্ট কখনোই জিরো হতে পারে না। এটি একটি ভয়ংকর ভুল এবং রোগীর চিকিৎসা বিভ্রান্ত করতে পারে।স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত তিন মাস ধরে গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিকে কোনো প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনোলজিস্ট নেই। রিসিপশনিস্ট রানা নিজেই একাধিক টেস্ট ও রিপোর্ট করাচ্ছেন। এমনকি এক্স-রেও করছেন তিনি। ডায়াগনস্টিকটির মালিক মো. সবুজ আল মামুন বলেন, আমি তো ডাক্তার না, তবে জানি CBC-তে WBC জিরো হওয়া ঠিক না। টেকনোলজিস্ট না থাকায় কিছু রিপোর্ট তুলাতুলির মাধ্যমে করিয়েছি। রিপোর্টটি দিন, দেখে জানাচ্ছি।কলাপাড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রসাদ অধিকারী বলেন, এভাবে ভুল রিপোর্ট দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পটুয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া জানান,আপনাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চিকিৎসার নামে এ ধরনের অপচিকিৎসা চলতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনায় শুধু একটি শিশুর জীবন নিয়ে খেলা নয়—একটি অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। যেখানে সুশাসন ও চিকিৎসা নীতিমালার প্রয়োগ ব্যর্থ হয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহি ছাড়া এসব বেসরকারি ডায়াগনস্টিকের ব্যবসা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।