
(১ বছর আগে) ১৮ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার, ১:১২ অপরাহ্ন
বিদেশি নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের বক্তব্য বা মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন। এখন থেকে কেবল স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ জড়িত থাকলেই নির্বাচনী বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নতুন এক সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রশাসনের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল তখনই কোনো নির্বাচনের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করবে, যখন সেখানে স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থ বিদ্যমান থাকবে।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে ইয়াহু নিউজ জানায়, এই নির্দেশনায় মার্কিন কূটনীতিকদের বলা হয়েছে— ভোটের গ্রহণযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা বা গণতান্ত্রিক মান নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে যদি কোনো নির্বাচনে সহিংসতা, জালিয়াতি বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তখন সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস চাইলে নিন্দা জানাতে পারবে— কিন্তু সেটির জন্য অবশ্যই ঊর্ধ্বতন অনুমোদন নিতে হবে। তাও এই ধরনের অনুমোদন ‘খুবই বিরল’ হবে বলে মেমোতে স্পষ্ট করা হয়েছে।মেমোয় আরও উল্লেখ করা হয়েছে: নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বার্তা যেন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সহায়ক হয়, কোনো মতাদর্শ প্রচারের জন্য নয়।বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন কূটনৈতিক নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত স্বার্থকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেয়ে অগ্রাধিকার দিতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো দেশে বিতর্কিত নির্বাচন হলেও, তা নিয়ে মার্কিন নীরবতা অবলম্বনের নজির বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রের মান নিয়ে প্রকাশ্যে মত দিয়ে আসছিল। অনেক সময় এই মন্তব্য বা অবস্থান বিদেশি সাহায্য, নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলত। নতুন নির্দেশনার ফলে সেই ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।