
(১ বছর আগে) ১৯ জুলাই ২০২৫, শনিবার, ৬:২১ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সবুজ হাওলাদার (২৩) নামে এক যুবককে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। নিখোঁজের দুই দিন পর শনিবার (১৯ জুলাই) সকালে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে ঝোপঝাড়ের মধ্যে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় সবুজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবুজ হাওলাদার ওই এলাকার আবুল বাসার হাওলাদারের ছেলে। মহিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে সবুজ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শরীফপুর এলাকার মো. লাল চাঁন (২৪) কে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে একই এলাকার মো. বেল্লাল (২০) নামের আরেকজনকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার বিকেলে কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সমীর সরকার প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেফতার লাল চাঁনের ঘর তল্লাশি করে একটি স্কুল ব্যাগের ভেতর থেকে নিহত সবুজ হাওলাদারের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাল চাঁন জানান, ভিকটিম সবুজ ও আসামিরা আত্মীয় ছিলেন এবং প্রায়ই মোবাইলে গেমস খেলাসহ আড্ডা দিতেন। ঘটনার রাতে সবুজ, লাল চাঁনের মোবাইল দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং কথাবার্তার একপর্যায়ে লাল চাঁনের শরীরের কিছু ভিডিও করেন। পরে সবুজ ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে লাল চাঁন ও বেল্লাল মিলে সবুজকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ১৭ জুলাই রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ গোপনের জন্য জঙ্গলের মধ্যে লতাপাতায় ঢেকে রাখা হয়। মহিপুর থানা পুলিশ জানায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।