
(১ বছর আগে) ২৬ জুলাই ২০২৫, শনিবার, ৩:০৬ অপরাহ্ন
রাজবাড়ীর পাংশায় একমাত্র ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্পত্তি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা পাংশা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন।
অভিযোগকারী মোছাঃ ফিরোজা খন্দকার (৬৫) পাংশা পৌর শহরের মাগুরাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত রইচ উদ্দিন খন্দকারের স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, তার একমাত্র ছেলে মোঃ খন্দকার ফজলে রাবিব সাগর (৪২) ও তার স্ত্রী মোছাঃ মুন্নি খন্দকার (২৭) কৌশলে তার নামে থাকা বাড়ি ও জমি নিজেদের নামে লিখে নেন। এরপর থেকে প্রায় ১৮ মাস আগে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ফিরোজা খন্দকার জানান, সর্বশেষ গত ২৩ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়িতে গেলে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করে আবার বের করে দেওয়া হয়। এছাড়াও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং কোনো ধরনের ভরণ-পোষণও দেয়া হয় না। বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন, কখনো মেয়ের বাড়ি, কখনো আত্মীয়স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
আমার স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত ভিটাবাড়ি থেকে আমাকে বের করে দিয়েছে। এখন সেই সম্পত্তি বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। আমি চাই এই জমি বিক্রি না হোক। আমি ন্যায়বিচার চাই, জীবনের শেষ সময়ে যেন শান্তিতে থাকতে পারি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলে রাবিব সাগরের বোন দীনা খন্দকার জানান,
আমার ভাই কৌশলে আমাদের মায়ের সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে—এ খবর আমরা প্রথমে জানতাম না। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাকে পেয়েছি। আমরা চাই মা তার বাড়ি ফিরে পাক এবং সেখানে শান্তিতে বসবাস করুক।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোঃ ফজলে রাবিব সাগরের বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরেও একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন,
এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।