
(১ বছর আগে) ২৯ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার, ১১:২৯ অপরাহ্ন
পিরোজপুরের সদর উপজেলার কদমতলার ভৈরামপুর গ্রামে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত পুলিশ সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত ঘাতক আর কেউ নয়, নিজের নাতি মাদকাসক্ত মোরসালিন (২২)।
গত ২৪ জুলাই রাতে রোকেয়া বেগমের মরদেহ নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই সদর থানা ও জেলা পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে।
অবশেষে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মাত্র ২০ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। মোরসালিন, শহরের একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত এবং নিয়মিত মাদক সেবনকারী, সে দিন গভীর রাতে কাউকে কিছু না বলে গ্রামে চলে আসে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের দাদিকে গলা কেটে হত্যা করে সে। এরপর আবার শহরে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে রেস্টুরেন্টের কাজে যোগ দেয়।
প্রাথমিকভাবে নিহত রোকেয়া বেগমের ছেলে লিটন হাওলাদার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রতিবেশীদের সন্দেহ করলেও, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ এই পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের সত্য।
গ্রেপ্তারের পর মোরসালিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, মোবাইল কেনার টাকা না দেয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে দাদিকে হত্যা করে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে গাঁজাও উদ্ধার করে পুলিশ।
পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এটি পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত মোরসালিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।