
(১০ মাস আগে) ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার, ৪:২৩ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সশ্রম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের মধ্যপুরুরা গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা মল্লিকা বানু খাবারের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। একবার খাবার জুটলে বাকি দু’বেলা খাবার কিভাবে হবে, তা নিয়েই তার দিনযাপন। জীর্ণশীর্ণ শরীর নিয়ে তিনি বেঁচে আছেন দরিদ্র ছেলে ও পরিবারের সংসারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে।
বৃদ্ধা মল্লিকা বানুর স্বামী মো. হাসু ৪৫ বছর আগে মারা যান। তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার। ছেলে কাদির মিয়া পরিবারের ভরণ-পোষণ ও বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। পুত্রবধু রিমা আক্তার জানান, আমাদের চেষ্টার কোনও কমতি নেই, কিন্তু সংসার অভাবের। স্বামী কাদির মিয়া যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে তিনবারের খাবার যোগাড় করা খুব কঠিন।
ছেলে কাদির মিয়া বলেন, আমার মায়ের বয়স ১২০ বছরের বেশি। তিনি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল দেখেছেন। কিন্তু অভাবের কারণে আমরা অসহায়। সরকারি কোনো সহায়তা বা বয়স্ক ভাতা কার্ড কখনো পাইনি।
এলাকাবাসী জানান, একসময় মল্লিকা বানু ভিক্ষা করতেন, কিন্তু বর্তমানে চলাফেরা করতে না পারায় দিন কাটছে আরও কষ্টে। তারা সরকারি সহায়তা ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এমন বয়সী মানুষ ভাতা পাবেন না—এটা কখনোই হওয়া উচিত নয়। আমি নিজে গিয়ে সরজমিনে তাকে সকল সহায়তা ও খাবার দিয়ে আসব। পাশাপাশি বয়স্ক ভাতা সহ অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”