
(১ বছর আগে) ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার, ৮:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৮:২৩ অপরাহ্ন
১৪৪ ধারা জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন, থমথমে পরিস্থিতি
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা ঘিরে শনিবার রাতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দেড়শোর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রবিবার ভোর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কীভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ
ঈদে মিলাদুন্নবি উপলক্ষে জশনে জুলুসে যোগ দিতে আসা সুন্নি আকিদার অনুসারীদের গাড়িবহর হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— তাদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি করা হয়। অপরদিকে সুন্নি অনুসারীরা অভিযোগ করে, মাদ্রাসা থেকে তাদের দিকে পানি ছুড়ে মারা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, গাড়িবহরের এক তরুণ মসজিদের দিকে অশালীন ইঙ্গিত করছে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামে। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ঢিল ছোড়া ও ভাঙচুর চলে।
প্রশাসনের তৎপরতা
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার চেষ্টা করেও সংঘর্ষ থামাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভোর রাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার রাত ১০টা থেকে রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার মীরের হাট থেকে এগারো মাইল সাবস্টেশন এবং উপজেলা গেট থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ওই সময়ের মধ্যে সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের একত্রে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
হতাহতের মুহুর্ত
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৮০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আহতের সংখ্যা দেড়শোরও বেশি হতে পারে।
বৈঠক ও সমাধানের চেষ্টা
রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে কওমি শিক্ষার্থীরা ভিডিও পোস্টকারী তরুণকে শাস্তির দাবি জানায়, আর সুন্নি অনুসারীরা তার মুক্তি দাবি করে। বৈঠক চলমান থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।