
(১ বছর আগে) ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার, ৮:২২ পূর্বাহ্ন
মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক শিশু। জীবনের প্রথম হাঁটাহাঁটি শিখছে, সদস্য উচ্চারিত অস্পষ্ট কিছু শব্দে মুখর করছে ঘর। অথচ সেই শিশুকেই শিকার হতে হলো পাশবিকতার অভিযুক্ত আর কেউ নন, তার আপন চাচা।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের নিজ কলমোহনা গ্রামে ০৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঘটে গেছে হৃদয়বিদায়ক এ ঘটনা। স্থানীয়রা বলছেন, এ যেন মানুষের মুখোশ পরা এক নরপিশাচের কাজ। অভিযুক্ত যুবক মোঃ মাসুম (২১) শিশুটির বাবার চাচাতো ভাই।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মাসুম শিশুটিকে কোলে করে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটির কান্না শুনে মা খোঁজ নিতে গিয়ে চোখের সামনে দেখেন বিভীষিকাময় এক দৃশ্য। এরপর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। শিশুটিকে দ্রুত মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ভুক্তভোগীর দাদী সাংবাদিকদের কাছে হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, এতো ছোট একটা বাচ্চার সাথে এই কাজ কীভাবে পারল। আমি দেখার সাহস পাইনি। শুনেই বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি তার কঠিন শাস্তি চাই।
মাত্র ১৫ দিন আগে মাসুমের বিয়ে হয়েছে। তার স্ত্রীও ঘটনাটি স্বীকার করে জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এমন ঘটনায় পুরো গ্রামে নেমে এসেছে ক্ষোভের ঝড়। প্রতিবেশীরা বলছেন, পারিবারিক আস্থার জায়গায় এ ধরনের পাশবিকতা সত্যিই অকল্পনীয়। তাদের দাবি অপরাধীর এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সাহস না পায়। এলাকাবাসী আরও জানান, কয়েক বছর আগে একই এলাকার এক ছোট ছেলেকে জোড়পূর্বক বলৎকার করার জন্য এলাকাবাসী ধরে মাসুমকে মারধর করে। পরে সে ঢাকায় চলে যায়। বেশ কয়েক বছর ঢাকায় থাকার পর সে বিয়ে করে। বিয়ে করেছে ১৫ দিনও হয়নি এরই মাঝে সে আবারও সে তার পাশের বাড়ির চৌদ্দ মাসের শিশুকে নির্যাতন করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে মাসুমের কঠিন শাস্তির দাবী জানায়।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মামলা রেকর্ড হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। আইনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। আজ তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শিশুটির অসহায় কান্না আর পরিবারের বেদনায় আজ শোকাহত মুক্তাগাছা। মানুষ বলছে, এ সমাজে নরপিশাচরা যতদিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাবে, ততদিন নিরাপদ নয় আমাদের সন্তানরা।