
(১ বছর আগে) ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ৬:৫১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে টাইফয়েড জ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব রোধে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। ইপিআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এ উদ্যোগে শুধু সিলেট বিভাগেই ৩০ লক্ষাধিক শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে।
সিলেট জেলায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১ লাখ ৬২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ১ ডোজ টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। কোনো শিশুই এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে না।
এ তথ্য জানানো হয় নগরভবন সভাকক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবী।
প্রধান অতিথি বলেন,
"যে কোনো ভালো কাজ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষকদের সম্মান করেন, তাই এই ক্যাম্পেইন সফল করতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক জানান, এই টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত, সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। তিনি বলেন,
"প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ টাইফয়েড থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম চালু করেছে। এটি শুধু শিশুদের জীবন রক্ষা নয়, দীর্ঘমেয়াদে টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
চিকিৎসকরা জানান, টাইফয়েড রোগ স্যালমোনেলা টাইফি জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এটি ছড়ায়, বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি ও যেখানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাব রয়েছে সেখানে ঝুঁকি বেশি।
দ্য গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়, এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে, যাদের ৬৮ শতাংশই শিশু।
টিকা প্রদানের জন্য বর্তমানে ইপিআই ভ্যাক্সিনেশন অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কেন্দ্রে এবং বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ইউনিসেফ সিলেট অঞ্চলের প্রধান দিল আফরোজা ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়কারী ডা. খালিদ বিন লুৎফরসহ সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।