
(১ বছর আগে) ১ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার, ২:১৭ অপরাহ্ন
৩০ বছর ধরে নৌকা বেয়ে সংসার চালিয়েছেন খুরশিদ মাঝি (৬৬)। অভাব-অনটন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে একসময় মুখের হাসি হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি। অদম্য মনোবলে নৌকায় খেয়া পারাপার করে টিকে ছিলেন জীবনের কঠিন লড়াইয়ে।
অবশেষে ৩০ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের পর পেলেন নতুন স্বপ্নের দুয়ার। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া মৃধা বাড়ি খেয়াঘাটে আজ সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম স্থানীয়দের সাথে নিয়ে খুরশিদ মাঝির হাতে একটি নতুন দোকান ও প্রয়োজনীয় মালামাল তুলে দেন।
দোকান পেয়ে খুশির অশ্রু লুকাতে পারলেন না তিনি। হাসিমুখে বললেন,
“৩০ বছর ধইরা নৌকা বাই। অভাবের যন্ত্রণা আমার মুখের হাসি কাইরা লইয়া গেছিলো। এহন আমি নতুন দোহান পাইছি সরকার থাইক্যা। এইডা দেইখ্যা ৩০ বছর পরে মনডার মধ্যে আনন্দে ভইরা গেছেগা। এই দোহান দিয়া কয়ডা পয়সা পাইলে আমার কষ্ট কিছুডা কমবো।”
স্থানীয়রা জানান, খুরশিদ মাঝির জীবন যুদ্ধ অন্য সবার জন্য অনুপ্রেরণা। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি কখনো ভিক্ষা করেননি। বরং নিজের পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ঘাটে মানুষের ভিড় জমেছে মাঝির নতুন দোকান ঘিরে। দোকানে সাজানো হয়েছে নানা পণ্যসামগ্রী। স্ত্রীকে পাশে নিয়ে তিনি নতুন স্বপ্ন বুনছেন। নৌকার খেয়া পারাপারের পাশাপাশি এই দোকান থেকে সংসারের আয়-রোজগার বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন,
“প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে আমরা নানা সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তবে আজকের এই উদ্যোগ আমাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। মাঝির চোখেমুখে হাসি দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে। এলাকাবাসী উচ্ছ্বসিত। মানবিক সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
খুরশিদ মাঝির এই সংগ্রামী জীবন দেখিয়ে দেয়, আত্মমর্যাদা ও দৃঢ় মনোবল মানুষকে যেকোনো প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।