
(১১ মাস আগে) ১৮ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার, ২:১৪ অপরাহ্ন
দৌলতপুরের পাবলা সবুজ সংঘ ময়দানে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে “খুলনা জেলা টেপ টেনিস শর্টপিচ প্রিমিয়ার লীগ ২০২৫”-এর প্রথম আসর। দুই দিনব্যাপী ৮ দলীয় এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্সে জমে ওঠে মাঠ ও আশপাশের এলাকা। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, দৌলতপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এম মুর্শিদ কামাল, সদস্য সচিব শেখ ইমাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মতলুবুর রহমান মিতুল এবং কৃষক দলের সাংগঠনিক সমন্বয়ক শেখ খালিদ হাসান মঈন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সরদার রফিকুল ইসলাম, আহ্বায়ক, পাবলা সবুজ সংঘ, দৌলতপুর, খুলনা। চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা প্রাইজমানি ও ট্রফি, আর রানার-আপ দল পেয়েছে ৩০ হাজার টাকা প্রাইজমানি ও ট্রফি। এছাড়াও ম্যান অব দ্য সিরিজ, ম্যান অব দ্য ফাইনাল, সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সেরা ফিল্ডার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।প্রধান অতিথি রকিবুল ইসলাম বকুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একটি সুন্দর এলাকার সঙ্গে সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে প্রাণবন্ত খেলার পরিবেশ গড়ে উঠছে— এটা আনন্দের বিষয়। এই মাঠটিকে সংরক্ষণ ও উন্নত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এত বড় একটি মাঠ পরিষ্কার রাখা ও সক্রিয় রাখা মানে এলাকাবাসীর জন্য এক আশীর্বাদ।” তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের তরুণদের মাঠের সঙ্গে যুক্ত রাখতে পারি, তবে তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবে। খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চা নয়— এটি মানসিক বিকাশ, সামাজিক সংহতি ও আত্মিক উন্নয়নের পথ। মাদক থেকে দূরে থাকতে হলে তরুণদের হাতে ব্যাট-বল তুলে দিতে হবে, অস্ত্র নয়।” তিনি আরও বলেন, “এই মাঠ আমাদের ভবিষ্যতের প্রতীক। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই যদি মাঠের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হই— আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত বা জাতীয় পার্টি— তাহলে এই মাঠই হবে আমাদের ঐক্যের প্রতীক।” রকিবুল ইসলাম বকুল মাঠ রক্ষায় যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “তাদের প্রচেষ্টা না থাকলে এই মাঠ হয়তো আজ থাকত না। এখন সময় এসেছে সবাই মিলে মাঠের উন্নয়নে কাজ করার— এটিই আমাদের আজকের অঙ্গীকার।” তিনি খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য ও তরুণ সমাজের ইতিবাচক বিকাশের আহ্বান জানান এবং বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতেই হবে— এটাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন।” অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন খুলনা জেলা শর্টপিচ খেলোয়াড়বৃন্দ। মাঠজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, উল্লাস ও ঐক্যের আবহ— যা খুলনার ক্রীড়া সংস্কৃতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল।