banglahour

বাংলাদেশে ড্রাইভিং স্কুল স্থাপন করবেন জাপানের শীর্ষ উদ্যোক্তা মিকি ওয়াতানাবে

জাতীয় | তাহিরুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি ।

(১ বছর আগে) ২৬ অক্টোবর ২০২৫, রবিবার, ৬:৩৩ অপরাহ্ন

জাপানের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও রাজনীতিক মিকি ওয়াতানাবে বাংলাদেশে একটি ড্রাইভিং স্কুল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে হাজারো দক্ষ চালককে প্রশিক্ষণ দিয়ে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মিকি ওয়াতানাবে বলেন,আমরা বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বর্গমিটার জায়গা খুঁজছি একটি ড্রাইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য। জাপানে দক্ষ চালকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, আর বাংলাদেশ হতে পারে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

তার ঘোষণার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাজধানীর উপকণ্ঠে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন।

এই বৈঠকটি গত মে মাসে অধ্যাপক ইউনূসের জাপান সফরের ধারাবাহিকতা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাপানি উদ্যোক্তারা আগামী পাঁচ বছরে এক লক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।

মিকি ওয়াতানাবে জানান, তিনি ইতোমধ্যেই মুন্সিগঞ্জের মনোহরদীতে একটি ভাষা প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন করেছেন, যেখানে প্রাথমিকভাবে তিন হাজার বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,ইতিমধ্যে ৫২ জন কর্মী নির্মাণ ও কৃষি খাতে কাজের জন্য জাপানে গিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিটি ব্যাচে ৪০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, এবং আমরা ধীরে ধীরে সারা দেশে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করব।

অধ্যাপক ইউনূস প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে জাপানি সংস্কৃতি, শিষ্টাচার ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,ভাষার পাশাপাশি জাপানের সংস্কৃতি ও আচার-ব্যবহার শেখানো জরুরি। এতে বাংলাদেশের কর্মীরা জাপানকে ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং সেখানে সহজে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও প্রস্তাব দেন, নার্সিং, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ ও কৃষি খাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করার জন্য, কারণ এসব খাতে দক্ষ কর্মীদের জাপানে উচ্চ বেতনে কাজের সুযোগ রয়েছে।

ওয়াতানাবে এতে সাড়া দিয়ে বলেন,আমরা এসব ক্ষেত্রেও কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গঠিত ‘জাপান সেল’–এর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন, যা জাপানি বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করেছে।
ওয়াতানাবে আরও জানান, তিনি ঢাকার ভেতর বা আশপাশে আরেকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে আগ্রহী, যাতে জাপানি কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা সহজে পরিদর্শন করতে পারেন।

এর প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত একটি প্রস্তুত অবকাঠামো—যেমন অব্যবহৃত আইটি পার্ক—চিহ্নিত করে সেটিকে জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তরের নির্দেশ দেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন,আমরা একসঙ্গে কাজ করব—একদিকে ড্রাইভিং স্কুলের জন্য জমি খুঁজব, অন্যদিকে নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত অবকাঠামো চিহ্নিত করব।

প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সচিব শাজিব খায়রুল ইসলাম জানান, জাপানি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে সম্ভাব্য আইটি পার্ক এলাকা পরিদর্শনের ব্যবস্থা শিগগিরই করা হবে।

এছাড়া, অধ্যাপক ইউনূস জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে এই পরীক্ষা বছরে মাত্র দু’বার অনুষ্ঠিত হয়, যা দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে ওয়াতানাবে স্মৃতিচারণা করে বলেন,দশ বছর আগে নারায়ণগঞ্জে আমি অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। বর্তমানে সেখানে দেড় হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, তারা অসাধারণভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল