
(৮ মাস আগে) ১১ নভেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার, ৬:৪৮ অপরাহ্ন
তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জাতীয় উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-কে আরও গুণগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ন্যাশনাল ট্রান্সফরমেশন থ্রু বিএনসিসি শীর্ষক উপস্থাপনা শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।
উপস্থাপনাটি দেন বিএনসিসি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সায়েদ আল মাসুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সেলেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সায়েদ আল মাসুদ জানান, বর্তমানে ৫৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএনসিসির আওতায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনসিসি ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনসিসিতে যোগদানের উপযুক্ত বয়স ১৭ থেকে ১৮ বছর। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ লাখ দক্ষ ক্যাডেট তৈরি করা।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনসিসির উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,আমরা সবাই বিএনসিসিকে সমর্থন করি, তবে শুধু সম্প্রসারণ নয়, গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি। ভালো ও বিশ্বাসযোগ্য প্রশিক্ষক তৈরি করতে হবে এবং ভবিষ্যতভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, “বিএনসিসির মূল মূল্যবোধ হওয়া উচিত আত্মমর্যাদা ও শৃঙ্খলা। ক্যাডেটদের এমন সার্টিফিকেশন দিতে হবে, যা ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগে সহায়ক হবে। তাদের জন্য নেটওয়ার্কিং সুযোগও তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, বিএনসিসি কেবল ছেলেদের জন্য নয়—মেয়েদের সমান অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সেলেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনসিসিকে আরও কার্যকর ও প্রয়োগযোগ্য করতে হবে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে এ স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা জরুরি।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেন, ভালো প্রশিক্ষক নিয়োগই হবে বিএনসিসির অগ্রাধিকারের বিষয়। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিএনসিসি ক্যাডেটরা সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল—এটি ছিল এক অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
বিএনসিসি নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,জাতীয় রূপান্তরের এই যাত্রায় তরুণদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
সরকার তরুণদের দক্ষতা, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক নেতৃত্বের বিকাশে বিএনসিসিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।