
(১১ মাস আগে) ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার, ৫:১১ অপরাহ্ন
অবৈধ বা নকল হ্যান্ডসেট বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কঠোর পদক্ষেপের প্রতিবাদে ও তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) রাজধানী ঢাকায় বিটিআরসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সমিতির (নাম কাল্পনিক) ব্যানারে এই কর্মসূচিতে শত শত ব্যবসায়ী অংশ নেন। তারা বিটিআরসি-এর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্লোগান দেন এবং দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবসায়ীবান্ধব সমাধান ঘোষণার দাবি জানান।
???? কর্মসূচির মূল কারণ: নকল হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্ত
গত বছর থেকে বিটিআরসি দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধ করার জন্য একটি কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতির আওতায়, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমের মাধ্যমে অবৈধ, চোরাইপথে আনা এবং নকল আইএমইআই (IMEI) নম্বরের হ্যান্ডসেটগুলো শনাক্ত করে নেটওয়ার্কে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এনইআইআর চালুর পর থেকে হাজার হাজার বৈধ ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের বক্তব্য হলো, অনেক পুরোনো হ্যান্ডসেট বা কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে অনেক বৈধ ফোনও ব্লক হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের হাতে থাকা প্রচুর সংখ্যক সেট বিক্রি হচ্ছে না এবং ক্রেতারাও জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিগুলো:
* পুরোনো স্টক ছাড়: ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা এনইআইআর চালুর পূর্বের সকল স্টক কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বৈধতা দিতে হবে।
* আইন প্রয়োগে সরলতা: অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের আইনটি যেন দ্রুত ও সরল প্রক্রিয়ায় করা হয়, যাতে সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন।
* ক্ষতিপূরণের দাবি: যে সকল বৈধ হ্যান্ডসেট সিস্টেমের ভুলে ব্লক হয়েছে, সেগুলোর জন্য ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
????️ বিটিআরসি-এর বক্তব্য
এই ঘেরাও কর্মসূচির প্রেক্ষিতে বিটিআরসি-এর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা, রাজস্ব ক্ষতি রোধ করা এবং বৈধ ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যই নেওয়া হয়েছে। এনইআইআর প্রক্রিয়ায় কোনো বৈধ গ্রাহক বা ব্যবসায়ী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
> "আমরা অবৈধ বাজার বন্ধ করে বৈধ আমদানিকারকদের জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে চাইছি। এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার জন্য অপরিহার্য," নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসি-এর এক কর্মকর্তা জানান।
>
???? যানজট ও জনদুর্ভোগ
বিটিআরসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচির কারণে রাজধানীর ওই এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। রাস্তার দুই পাশে শত শত ব্যবসায়ীর অবস্থানের কারণে পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও ব্যবসায়ীদের অবস্থানের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়।
ঘেরাও কর্মসূচি শেষে ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দেন, যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস না আসে, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন, যার মধ্যে দেশব্যাপী মোবাইল ফোন কেনা-বেচা বন্ধের মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।